ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কাতার-সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতার-সৌদির জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরব ও কাতারের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসভান্ডারের ইরানি অংশ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পরই পাল্টা এ পদক্ষেপ নেয় তেহরান। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে দ্য জাকার্তা পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কাতারের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি কাতারএনার্জি জানিয়েছে, জ্বালানি শিল্পের কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই দিনে পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টাও নস্যাৎ করা হয়।

সাউথ পার্স বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসভান্ডারের ইরানি অংশ। উপসাগরের ওপারে কাতারের সঙ্গে ইরান এই গ্যাসক্ষেত্র ভাগ করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাউথ পার্সে হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে ইসরাইলকে ভর্ৎসনা করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে ইরানেরও সমালোচনা করে তেহরানের দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে দোহা।

এদিকে ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে সাউথ পার্সে হামলার দায় স্বীকার না করলেও, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে—এই হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই অবগত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তিনি তা সমর্থন করেছিলেন।

ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গ্যাস ট্যাংক ও একটি শোধনাগারের অংশে আঘাত হানা হয়েছে। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক জ্বালানি স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এসব স্থাপনা এমন দেশগুলোতে অবস্থিত, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তালিকায় রয়েছে সৌদি আরবের স্যামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র, এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান। হামলার আগে এসব এলাকা খালি করারও সতর্কতা দিয়েছে তেহরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এতদিন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত ছিল, যাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস শিল্পে পাল্টা হামলার ঝুঁকি না বাড়ে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো রাষ্ট্রগুলোর জন্য নিষিদ্ধ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি কাতারের আমির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পানি ও জ্বালানিসহ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে ‘স্থগিতাদেশ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই পথ দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। তবে জ্বালানি অবকাঠামো অক্ষত থাকলে এই বিঘ্ন সাময়িক হতে পারে বলে ধারণা করছে ভোক্তা দেশগুলো।

ইরান,কাতার,সৌদি আরব,জ্বালানি স্থাপনা,হামলা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত