অনলাইন সংস্করণ
১৮:৩৩, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খোলা আকাশে একটুখানি আনন্দের খোঁজে শিশুদের ওড়ানো খেলনা ঘুড়িও এখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের নতুন অজুহাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদার ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে, গাজা সীমান্ত থেকে ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন ওড়ানো অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা সর্বাত্মক হামলা ও টার্গেটেড কিলিং (গুপ্ত হত্যা) শুরু করবে।
গত রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যৌথ বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, 'গাজা সীমান্ত অভিমুখে ঘুড়ি ওড়ানো হলে সেটিকে 'যুদ্ধের শামিল' হিসেবে বিবেচনা করা হবে'।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার গাজা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চারটি ঘুড়ি পাওয়া যায়। গত রোববার সেনাবাহিনী আরও একটি ঘুড়ি গুলি করে নামায়। গত কয়েক দিনে এ ধরনের প্রায় ১০টি ঘুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েক বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে।
সে সময় গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে আগুন ধরিয়ে দিতে সক্ষম ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানো হতো। এসবের কারণে দক্ষিণ ইসরায়েলের কৃষিজমিতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন নেতানিয়াহু ও কাটজ।
বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ না হলে এসবের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। যেসব এলাকা থেকে ঘুড়ি, ড্রোন ও বেলুন পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
আইডিএফের দাবি, সাম্প্রতিক এসব ঘুড়ি ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু পাঠানোর পেছনে হামাসের হাত রয়েছে। মূলত এই ধরনের কর্মকাণ্ডে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তা যাচাই করতেই এগুলো পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ করতে হামাসকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।