অনলাইন সংস্করণ
১৫:২২, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে যৌথ সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশ তিনটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি ভিত্তিতে তাদের সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা ও জোট গঠনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনের কার্যালয়ে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
বৈঠকে সেনাপ্রধানদের আসন্ন জরুরি বৈঠকের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মূলত প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সৌদি আরবকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তার সুনির্দিষ্ট উপায় ও প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারণ করতেই সেনাপ্রধানরা একমঞ্চে বসতে যাচ্ছেন।
ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী, এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা সম্মিলিতভাবে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিউইয়র্কের এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একযোগে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী এবং দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রচেষ্টার ‘তীব্র নিন্দা’ জানান।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন এবং কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং উত্তেজনা প্রশমনে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এই তিন দেশ।