অনলাইন সংস্করণ
১৮:৩৩, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের নবম অধিবেশনের তৃতীয় বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন যুবরাজ।
ভাষণে মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের বিরুদ্ধে ‘বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের পথ বেছে নেওয়ার’ অভিযোগ করেন। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যুবরাজ বলেন, দেশের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো ধরনের হুমকি বা হামলার বিরুদ্ধে জবাব দিতে সৌদি আরব দ্বিধা করবে না। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে আপস না করেই উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
এ সময় তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে আগস্টে করা ত্রিপক্ষীয় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ চুক্তির লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, সংঘাত ও উত্তেজনার ক্ষতি থেকে অঞ্চলকে সুরক্ষা দেওয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের জাহাজে হামলার বিষয়েও কথা বলেন সৌদি যুবরাজ। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের বিরোধিতা করেন তিনি।
মোহাম্মদ বিন সালমান জানান, আন্তর্জাতিক জলপথে সবার স্বার্থ রক্ষায় একটি বহুজাতিক প্রতিরক্ষামূলক সামুদ্রিক জোট গঠন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হুতিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বেড়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের তাইফ এবং লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে পাকিস্তান।