
বান্দা যখন প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং মসিবতে ধৈর্য ধারণ করবে তখন তার ঈমান পূর্ণ হবে (তাফসিরে ইবনুল কাইয়্যিম, সুরা লুকমান : ৩১)। আল্লাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আদেশ করে বলেন, ‘তোমরা শোকর করো, কুফর করো না।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)। শোকরের গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন ‘শাকের এবং শাকুর’ বলে।
শোকরগোজার বান্দা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা শোকর আদায় করো তবে তিনি তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।’ (সুরা জুমার : ৭)। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো শোকর ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। তবে কমসংখ্যক মানুষই শোকর আদায় করে। আল্লাহ সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আর খুব কম মানুষই আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে’ (সুরা সাবা : ১৩)। রাসুল (সা) দীর্ঘ রাত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন। এতে প্রিয় তার পা ফুলে যেত। বলা হলো, হে নবী! আপনার পূর্বাপরের সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়েছে; তবু কেন এত কষ্টে ইবাদত করেন? উত্তরে বললেন, আমি কি শোকরগোজার বান্দা হব না। (বোখারি : ৪৮৩৬)। এ হাদিসে শোকর আদায়ে নবীজি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে নবী মুসা (আ)-এর একটি ঘটনা আছে। একবার মুসা (আ.) বললেন, হে আল্লাহ, আপনি বাবা আদমকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তার ভেতরে রুহ দিয়েছেন। ফেরেশতাদের দিয়ে তাকে সেজদা করিয়েছেন। তাকে সব জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। সুতরাং আদম নবী কীভাবে আপনার শোকর আদায় করবে? উত্তরে আল্লাহ বললেন, হে মুসা! আমি আল্লাহই যে এ সবকিছু করেছি আদম নবী তা জানে। আর আমার সম্পর্কে তার এ জানাটাই হলো শোকর আদায় করা। আল্লাহ আরও বলেন, যারা আমার জিকির করে তারা আমার সঙ্গী। যারা আমার শোকর আদায় করে আমি তাদের অতিরিক্ত দান করি। যারা আমার আনুগত্য করে আমি তাদের সম্মানিত করি। আর যারা আমার নাফরমানি করে আমি তাদের নিরাশ করি না; যদি তারা তওবা করে ফিরে আসে, আমি তাদের বন্ধু হয়ে তাদের ক্ষমা করে দিই। আর যদি তওবা না করে, তবে আমি তাদের বিভিন্ন মসিবতে লিপ্ত করি যেন আমি তাদের শুদ্ধ করতে পারি। (মাদারিজুস সালেকিন : ২/২-৮)
ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, শোকরের ভিত্তিমূল পাঁচটি- এক. প্রশংসনীয় আল্লাহর জন্য প্রশংসাকারী বান্দা বিনয়ী হবে। দুই. আল্লাহকে ভালোবাসবে। তিন. আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্বীকার করবে। চার. জবানে আল্লাহর প্রশংসা করবে। পাঁচ. আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত তার অপছন্দীয় কাজে ব্যবহার করবে না। সুতরাং এই পাঁচটি বিষয় শোকরের মূল। এর কোনো একটি অনুপস্থিত হলে শোকর অপূর্ণ থাকবে (মাদারিজুস সালেকিন : ২/২-৮)। আমাদের নবীজিও শোকর আদায়ের বিভিন্ন আদব ও নিয়ম শিখিয়েছেন।
নবীজি (সা.) হজরত মুয়াজ (রা.)-কে বললেন, হে মুয়াজ! আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। সুতরাং তুমি প্রতি সালাতের পরে এই দোয়াটি পড়বে- ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার জিকির, শোকর এবং উত্তম ইবাদতের তওফিক দান করুন।’ (নাসায়ি : ১৩০৩)।