ঢাকা বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র’র প্রাসঙ্গিকতা

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র’র প্রাসঙ্গিকতা

সমসাময়িক বিশ্ব যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নৈতিক অবক্ষয় ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত, তখন ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা মানুষকে কিছু ভৌত সুবিধা দিতে সক্ষম হলেও ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের একটি স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আইন ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সমাজে শোষণ, দুর্নীতি ও বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে। এ বাস্তবতায় ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র একটি নৈতিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের কল্যাণকে শুধু সামাজিক সুবিধা বা রাষ্ট্রীয় অনুগ্রহ হিসেবে দেখে না; বরং তা আল্লাহপ্রদত্ত দায়িত্ব ও আমানত হিসেবে বিবেচনা করে। এখানে শাসক ও শাসিত- উভয়েই আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ধারণায় আবদ্ধ। এর ফলে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী নৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও দায়িত্বশীলতা রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক মানদণ্ডে পরিণত হয়, যা আধুনিক রাষ্ট্র সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এ ছাড়া ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র মাকাসিদুশ শরিয়ার আলোকে মানুষের ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ, সম্পদ ও মর্যাদা সংরক্ষণকে রাষ্ট্রীয় কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে। দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা- এসব বিষয় এখানে খণ্ডিত বা সাময়িক কর্মসূচি নয়; বরং একটি সমন্বিত রাষ্ট্রনীতির অংশ। ফলে কল্যাণ, ন্যায় ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; বরং এটি একটি পরীক্ষিত ও বাস্তবায়নযোগ্য রাষ্ট্রমডেল। নবী (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে এর সফল প্রয়োগ ইতিহাসে প্রমাণিত। আজকের নৈতিক শূন্যতা, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক বিপর্যয়ের যুগে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের মর্যাদা, ন্যায় ও শান্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী রাষ্ট্রচিন্তা হিসেবে গুরুত্ব বহন করে।

রাষ্ট্রক্ষমতা ও আমানতের ধারণা : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রক্ষমতাকে ‘আমানত হিসেবে দেখা’। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো ব্যক্তিগত অধিকার বা স্বার্থরক্ষার উপকরণ নয়; বরং এটি একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহ কর্তৃক শাসকের ওপর অর্পিত। নবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শাসককে তার ক্ষমতার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ কোরআন-সুন্নাহে বিভিন্নভাবে হাদিসে শাসকের দায়িত্ব ও জনগণের কল্যাণের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। এভাবে আমানত ও জবাবদিহিতার সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করলে এটি দুঃশাসন বা স্বেচ্ছাচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় না। শাসক ও প্রশাসকরা জনগণের কল্যাণ, ন্যায্যতা এবং সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকে। ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থায় কিছু দিকের মধ্যে ‘আমানতের ধারণা’ প্রতিফলিত হয়। যেমন- ১. জবাবদিহিতা; অর্থাৎ শাসক ও প্রশাসকরা কেবল মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছে তাদের কর্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

২. সীমাবদ্ধ ক্ষমতা; অর্থাৎ রাষ্ট্রক্ষমতা সীমাহীন নয়; এটি শাসকের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ৩. সামাজিক কল্যাণের অগ্রাধিকার; অর্থাৎ ক্ষমতার ব্যবহার ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক প্রাপ্তির জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণ, ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রক্ষমতা ও আমানতের ধারণা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। শাসক ক্ষমতাকে আল্লাহপ্রদত্ত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে জনগণের কল্যাণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করলে রাষ্ট্র একটি নৈতিক, স্থিতিশীল ও কার্যকরী কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের দার্শনিক ভিত্তি মূলত তাওহিদ, আদল, ইনসাফ, দায়িত্বশীল স্বাধীনতা এবং আমানতের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ মৌলিক নীতিগুলো রাষ্ট্রের কাঠামো ও কার্যক্রমকে নৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিকভাবে স্থিতিশীল করে।

তাওহিদভিত্তিক সার্বভৌমত্ব : ইসলামি রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। শাসক বা প্রশাসকরা কেবল আল্লাহর নির্দেশ ও নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন ও সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহ। এটি নিশ্চিত করে, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রাপ্তির জন্য ব্যবহার হয় না, বরং মানুষের কল্যাণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত থাকে।

আদল ও ইনসাফ : আদল ও ইনসাফ ইসলামি রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রমে ন্যায়, সামাজিক ভারসাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা হয়। প্রশাসন ও শাসনের প্রতিটি স্তরেই নাগরিকদের অধিকার রক্ষা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। আদল ছাড়া কোনো শাসন কার্যকর ও স্থায়ী হতে পারে না।

দায়িত্বশীল স্বাধীনতা : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে নাগরিকদের স্বাধীনতা সীমাহীন নয়, বরং ‘দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত’। স্বাধীনতা মানে শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রাধান্য নয়; বরং এটি ব্যবহার করা হয় নৈতিক দায়িত্ব, সামাজিক দায়িত্ব এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য। দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সমাজে ভারসাম্য ও শান্তি বজায় থাকে।

জবাবদিহিতা ও আমানত : রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামি দৃষ্টিতে একটি ‘আমানত’, যা শাসকের ওপর অর্পিত। শাসক ও প্রশাসকরা জনগণের কল্যাণ, ন্যায় ও আইন বাস্তবায়নের জন্য আল্লাহ ও মানুষের কাছে জবাবদিহি করবে। ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থপর শাসন ইসলামি নীতির পরিপন্থী। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, রাষ্ট্র ও শাসন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কেবল জনগণের কল্যাণ এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়ন।

মোটকথা- তাওহিদ, আদল ও ইনসাফ, দায়িত্বশীল স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতা ও আমানতের এ চারটি দার্শনিক ভিত্তি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রকে একটি স্থিতিশীল, নৈতিক, মানবকল্যাণমুখী এবং টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ নীতিগুলো ছাড়া রাষ্ট্র ক্ষমতা, আইন ও সামাজিক নীতি নিঃশৃঙ্খল বা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামো : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামো একটি নৈতিক ও দায়িত্বপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নির্মিত। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো শাসন ক্ষমতার প্রয়োগে ন্যায়, সামাজিক কল্যাণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শূরাভিত্তিক শাসনব্যবস্থা : ইসলামি রাষ্ট্রে শাসন প্রক্রিয়া শূরা বা পরামর্শভিত্তিক। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণ ও উপদেষ্টামণ্ডলির মতামত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত নীতি প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়সমূহে। শূরা সিস্টেম নিশ্চিত করে, ক্ষমতা কেবল এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে সামগ্রিক মানবকল্যাণ ও ন্যায় নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দায়িত্ব : নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি শাসক বা প্রশাসককে নৈতিকতা, জ্ঞান, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিতে পারদর্শী হতে হবে। শাসকের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়; তাকে জনগণের কল্যাণ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, ধর্ম ও মানবিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। নেতার এ যোগ্যতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে, শাসন কার্যক্রম জনগণের কল্যাণমুখী ও স্থায়ী হবে।

ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও অপসারণনীতি : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রে ক্ষমতা সীমিত ও দায়বদ্ধ। শাসক বা প্রশাসক ক্ষমতার অপব্যবহার করলে বা জনগণের কল্যাণ বিঘ্নিত করলে তাকে অপসারণ করা যেতে পারে। ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করে, শাসক ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয় প্রভাব বা শাসনকৌশল ব্যবহার করে সমাজে অবিচার, বৈষম্য বা কষ্ট তৈরি করতে পারবে না। জবাবদিহি ও অপসারণ নীতি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল, নৈতিক ও টেকসই রাখে।

মোটকথা- শূরাভিত্তিক শাসন, যোগ্য নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহি- এ তিনটি উপাদান ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রকে একটি নৈতিক, দায়িত্বশীল এবং জনগণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এ ধরনের শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে, সকল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম মানুষের পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিকে নিবেদিত।

আইন ও বিচারব্যবস্থা : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থা মানুষের কল্যাণ, ন্যায় ও সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য নির্মিত। এটি শুধু শাসক বা প্রশাসকের ইচ্ছা অনুযায়ী নয়, বরং ‘আল্লাহর নির্দেশনা এবং নৈতিক প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে’ পরিচালিত হয়।

আইন প্রণয়নের উৎস : ইসলামি রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের মূল উৎস হলো ‘কোরআন ও সুন্নাহ’। এগুলো রাষ্ট্রের নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নীতির ভিত্তি তৈরি করে। শাসক বা আইন প্রণেতারা এ উচিৎ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে, তবে তা অবশ্যই ‘মানবকল্যাণ, ন্যায় এবং ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে। বিচারকগণ শাসক, প্রশাসন বা রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করে, ‘ন্যায়বিচার কার্যকর হবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত, স্বার্থ বা অনৈতিক প্রভাব বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারবে না।’

ন্যায়বিচার ও সমতার নীতি : ইসলামি বিচারব্যবস্থা ন্যায়, ইনসাফ এবং সমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সকল নাগরিক- ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য ছাড়া- আইনের চোখে সমান। বিচার প্রক্রিয়ায় মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সামাজিক শান্তি এবং মানব কল্যাণ নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য।

মোটকথা আইন প্রণয়নের উৎস, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ন্যায় ও সমতার নীতি- এ তিনটি উপাদান ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী, নৈতিক ও জনগণমুখী করে। এটি নিশ্চিত করে, রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম মানুষের কল্যাণ, ন্যায় এবং সামাজিক ভারসাম্যের জন্য নিবেদিত থাকে।

অর্থনৈতিক কাঠামো ও কল্যাণনীতি : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো মানুষের সমৃদ্ধি, ন্যায় ও সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য নৈতিক ও আইনি ভিত্তিতে গঠিত। এর লক্ষ্য কেবল সম্পদ সঞ্চয় নয়, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষের কল্যাণ ও দারিদ্র্য বিমোচন।

সুদমুক্ত অর্থনীতি : ইসলামি অর্থনীতির একটি মৌলিক নীতি হলো সুদমুক্ত ব্যবস্থা। সুদ লেনদেনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সমাজে অকল্যাণ বয়ে আনে। সুদমুক্ত অর্থনীতি নিশ্চিত করে, সম্পদ ন্যায্য ও মানবকল্যাণমুখীভাবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হয়।

জাকাত ও বায়তুল মাল ব্যবস্থা : ইসলামি রাষ্ট্রে জাকাত ও বায়তুল মাল ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি। জাকাত সমাজের দরিদ্র ও অসহায়দের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। বায়তুল মাল ধনী ও দরিদ্র্যের মধ্যে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রাখে।

দারিদ্র্য বিমোচন : রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো দরিদ্র, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়, শান্তি এবং মানুষের মৌলিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়। এটি শিক্ষার সুযোগ, চিকিৎসা, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।

শ্রমিক ও ভোক্তা অধিকার : ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র শ্রমিক ও ভোক্তার অধিকার রক্ষা করে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অন্যায় থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। ভোক্তাদের ক্ষেত্রে সততা, ন্যায্য মূল্য এবং প্রতারণামুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মোটকথা- সুদমুক্ত অর্থনীতি, জাকাত ও বায়তুল মালের কার্যকর ব্যবস্থা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং শ্রমিক ও ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ- এ নীতিগুলো ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রকে একটি নৈতিক, মানবকল্যাণমুখী ও সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো প্রদান করে। এতে সম্পদ শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং সমাজের সকল স্তরের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

ইসলামি কল্যাণ,রাষ্ট্র,প্রাসঙ্গিকতা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত