অনলাইন সংস্করণ
১৬:০৭, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনী হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এমন সম্পদের মালিকদের আগামী দিনে শাসক হিসেবে দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুদকের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ ও দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম উপস্থিত ছিলেন।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী হলফনামায় যে সম্পদের বিবরণী দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে যে সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছিল, তার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান ছিল।
তিনি বলেন, ওই সময়ে যদি দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে তখনই তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ড. আবদুল মোমেন বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে দুদকের পক্ষে সব তথ্য সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা কঠিন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির সম্পদের বিষয়ে যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে সেই তথ্য আগে দুদককে জানাতে।
সাংবাদিকরাও অনুসন্ধানী ভূমিকা পালন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুসন্ধানের মাধ্যমে কমিশনকে সহায়তা করলে হলফনামায় প্রদর্শিত হয়নি এমন সম্পদের মালিক যেন আগামী দিনে শাসক হিসেবে আসতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। একটি ন্যায়নিষ্ঠ ও সুবিচারসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনের জন্য দুর্নীতি নিরসন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ হবেন।