
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ আট হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ১৬ হাজার কেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। আর প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
আইজিপি বলেন, প্রথম স্তরে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯ ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ভিত্তিতে টহল ও তদারকির জন্য পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে। তৃতীয় স্তরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, নির্বাচনি নিরাপত্তায় এক লাখ ৫৭ হাজার ৮০৫ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে নয় হাজার ৩৯১ জন ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্সের দায়িত্ব পালন করবেন। বাকিরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ইউনিটে কাজ করবেন। এ ছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আরও ২৯ হাজার ৭৯৮ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা বলয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এ ছাড়া প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী পুলিশ সুপারেরা ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণ করবেন।
বাহারুল আলম বলেন, সব মিলিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ সদস্যকে মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীও যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে আনসার বাহিনীর সদস্যই সবচেয়ে বেশি। তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। এসব বাহিনী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের পরামর্শ, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে পাঁচজন নিহত ও ৬০৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমাতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।
আবা/এসআর/২৫