অনলাইন সংস্করণ
১৮:১৯, ০৮ মে, ২০২৬
মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার, অপব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় দুই দেশ মাদক পাচার ও এর সঙ্গে জড়িত অর্থপাচার প্রতিরোধে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান করবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।
এ ছাড়া মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মাদক পাচারকারী চক্র ও অপরাধীদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান, মাদক শনাক্তের নতুন পদ্ধতি ও লুকানোর কৌশল নিয়ে তথ্য বিনিময়, এবং যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা।
এছাড়া দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল ভাগাভাগি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
মাদক শনাক্তে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তিতে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আদান-প্রদান করা কোনো তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পারস্পরিক সম্মতিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানোও যাবে। দুই দেশই আশা প্রকাশ করেছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি আসবে এবং জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে।