অনলাইন সংস্করণ
২০:৫৩, ১০ জুন, ২০২৬
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অধস্তন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে (ডেথ রেফারেন্স) এবং এ সংক্রান্ত আপিল দ্রুত শুনানির জন্য হাইকোর্টে আলাদা বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।
বুধবার ৯১০ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে এই বেঞ্চ গঠন করে সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হবে বলে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত গঠনবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে উচ্চ আদালতের অনুমোদন ও শুনানি হতে হয়। এজন্য অধস্তন আদালতের রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হলে এটি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে নথিভুক্ত এবং শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামি হাই কোর্টে আপিল কিংবা জেল আপিলের সুযোগ পান।
সুপ্রিমকোর্টের গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া এসব মামলা শুনানির জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগে পাঁচ বছরের বেশি। বর্তমানে হাইকোর্টের পৃথক চার বেঞ্চে ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের পর এই রায় দ্রুত কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। রামিসার মতো এ ধরনের ঘটনার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ওঠে সব মহল থেকে। এরপরই বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলও জানিয়েছিলেন, রামিসার মতো নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল) শুনানিতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি। আগামী রবিবার থেকে এই বেঞ্চ কার্যকর হবে।