
ভোটের ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে বিএনপির বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অনেক আসনেই তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে এসেছেন। প্রচার-প্রচারণায় দল মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন এসব নেতারা। এমনকি আগামী নির্বাচনি ফলাফলে তারা চমকও সৃষ্টি করতে পারেন। এমন সম্ভাবনা থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও জোরেশোরে এসব নেতাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন এমন অন্তত ৭১ জনকে বহিষ্কার করেও নির্বাচনি লড়াই থেকে বিরত রাখা যায়নি। বরং এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ কিছু জায়গায় দলের মনোনীত প্রার্থীদেরই ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন বলে দলের ভেতরেই আলোচনা আছে। কোনো কোনো এলাকায় দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। আবার ভিন্ন দলের যেসব নেতাকে বিএনপি দলীয়ভাবে সমর্থন দিয়েছে তাদেরও অনেকে এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই এসব নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। এতে বিএনপি এবার অনেক আসন হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাজেই দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকটা গলার কাঁটায় রূপ নিয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সারাদেশে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় অনেক আসনে নব্য, হাইব্রিড, বিগত দিনের সুবিধাভোগি, আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ছাড়াও প্রবাসের অনেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্ভ্যাব্য ওই তালিকায় ত্যাগী, যোগ্য আর জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ক্ষুব্ধ ও জনপ্রিয় নেতারাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন। দল থেকে কঠোর হুঁশিয়ারিতেও তারা মাঠ ছাড়েননি। পরে দল থেকে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বহিষ্কারেও তেমন কোন উন্নতি হয়নি। অর্ধ শতাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচন করছেন।
এর মধ্যে আবার অনেকে নিজ জনপ্রিয়তায় এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এসব এলাকায় জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থীও রয়েছেন। ফলে ঘরে-বাইরে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।
এসব প্রার্থীদের অনেকে জানান, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম আর জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন না দেওয়ায় সারাদেশে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে মাঠ জরিপের নামে ভুল তথ্য আর পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে আবার কোন কোন আসনে দলের প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে যোগ্যরা প্রার্থী তালিকাতে আসতে পারেননি। দলের হাইকমান্ডকে এসব বিষয়ে বারবার অবহিত করলেও তারা কোনো নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি বলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে যেমন দলের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বিভক্তিও বাড়ছে তৃণমূলে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নির্বাচনি সমাবেশে প্রকাশ্যেই বলেছেন যে কেন্দ্র (বিএনপি) থেকে ডেকে নিয়ে তাকে নির্বাচন না করার জন্য বলা হয়েছিল। তার আসনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে বিএনপি সমর্থন দিলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির হাসান মামুন। এক সমাবেশে মি. নুর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন- হাসান মামুনকে দুবার ডেকে নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, কিন্তু তিনি কথা শুনেননি।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। মি. ফিরোজ নির্বাচনি সমাবেশে বলেছেন, তিনি জয়ী হয়ে আসনটি ‘তারেক রহমানকে উপহার দেবেন’।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
শেরপুর-১ বিএনপির সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তাকেও বহিষ্কার করেছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলটির জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সুজাত মিয়া।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রয়াত নেতা ফজলুর রহমান পটলের ছোট মেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মনোনয়ন দিয়েছে দল। কিন্তু তার আপন বড় ভাই ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক ভিপি ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন তার বোনের প্রার্থীতা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেন এবং তিনি নিজেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করলেও সেটা গ্রহণ হয়নি। এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুও স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। বিগত বছরগুলোতে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা কিংবা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কাজ করেন তিনি। এই আসনে ত্রিধারায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা। পুতুলের ভাই নির্বাচনি মাঠে না থেকে বোনকে সমর্থন জানালেও তার অনুসারীরা তা মানতে নারাজ। অন্যদিকে টিপুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বিগত দিনের দলের নেতাকর্মীরা। যাদের বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কার করে দল। আর পুতুলের পক্ষে রয়েছেন দুই উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় অংশ। তবে পুতুলের শশুরবাড়ি মাদারীপুর জেলায় হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি এই এলাকায় থাকবেন নাকি শশুরবাড়ি এলাকায় যাবেন তা নিয়ে ধোয়াশায় সাধারণ মানুষ। এসব কারণে বিএনপি অধুষ্যিত এই আসনে এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় তাইফুল ইসলা টিপু এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আসনে দলের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচন করায় এরই মধ্যে মহিউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি তার সঙ্গে থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই এলাকার নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনে দুইটি উপজেলার মধ্যে গজারিয়া থানায় ভোট দেড় লাখ আর সদর উপজেলায় রয়েছে সাড়ে তিন লাখ। কামরুজ্জামান রতনের বাড়ি গজারিয়ায় আর মহিউদ্দিনের বাড়ি সদরে। আবার মহিউদ্দিনের আপন বড় ভাই আব্দুল হাই বিএনপির টিকিটে পাঁচবারের এমপি ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপমন্ত্রী ছিলেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, আসনটির বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের বিপক্ষে গিয়ে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে কাজ করা বিএনপি নেতাদের বহিষ্কার করা হচ্ছে। তবে বহিষ্কার করেও মহিউদ্দিনের পাশ থেকে সরানো যাবে না বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীদের অনেকে।
বহিষ্কৃত মজিবুর রহমান বলেন, দল করতে গিয়ে ৫০টির বেশি মামলার আসামি হয়েছি। বাড়ি ছাড়া হয়েছি। আওয়ামী লীগের লোকজন বাড়িঘর লুটপাট করেছেন। মহিউদ্দিন আমাদের সংগঠিত রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। অথচ দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আমরা আগে মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি করেছি। দল থেকে যতই বহিষ্কার করা হোক, মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকব।
নেত্রকোনা-৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। তবে এখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন দল থেকে বহিষ্কৃত দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। তিনি বিগত সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান, কেন্দুয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজিত করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন বলে এলাকায় ভোটের মাঠে তার প্রভাব বেশি রয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানান।
দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ কালু নির্বাচন করছেন। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সাদিক রিয়াজ পিনাকের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় এবং আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ট হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় বিএনপির বড় একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে না এলেও বজলুর রশিদ কালুর পক্ষে অবস্থান আরও জোরদার করছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
ময়মনসিংহ-৩ আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করছেন এম ইকবাল হোসেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তায়েবুর রহমান হিরন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার সঙ্গে রয়েছেন। আবার জনপ্রিয়তায় তিনি এগিয়ে আছেন।
ময়মনসিংহ-১০ মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। স্বতন্ত্র হিসেবে একই আসনে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শিল্পপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন করছেন। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করলেও নির্বাচনি মাঠে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে দলের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসির। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান খান আজাদ। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এলাকায় নির্বাচনি মাঠে ভালো করছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এরইমধ্যে ফরহাদ ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
যশোর-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা মুন্নী। তার স্বামী জনপ্রিয় নেতা নাজমুল ইসলাম আওয়ামী লীগ আমলে গুম ও হত্যার শিকার হন বলে এলাকায় এই পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা কিংবা গ্রহণযোগ্যতা অনেক। তবে বিএনপির একটি অংশর সঙ্গে তার বিরোধ থাকায় সেখানে তার বিরুদ্ধে চৌগাছা উপজেলার সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলামকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড় করান হয়েছে। এতে বিএনপির ভোটে কাটাকাটিতে মুন্নীর ভোট কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
আবার যশোর-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে। তিনিও দলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তার জায়গায় শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেয় দলটি। তৃপ্তিকে ভোটের মাঠে সক্রিয় করতে না পারলে এই আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে শঙ্কা নেতাকর্মীদের।
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী যুবদলের নেতা ইসহাক সরকার। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ইসহাক সরকার ও তার পরিবারের ত্যাগ, নির্যাতনের কারণে সাধারণ নেতাকর্মী আর ভোটারদের মধ্যে আলাদা ইমেজ রয়েছে। তার সঙ্গে মনোনয়ন বঞ্চিত অন্যান্য নেতারাও সম্পৃক্ত আছেন। এমনকি এই আসনের প্রভাবশালী ও প্রয়তা নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর পরিবারের সমর্থনও আছে বলে নেতাকর্মীরা জানান। সেক্ষেত্রে ইসহাক সরকার ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর হিসেবে অবস্থান নিয়েছেন।
ঢাকা-১৪ আসনে দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। বিএনপি প্রার্থী করেছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ -এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামকে (তুলি)। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন সাজু। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠে আছেন। অন্যদিকে তার বাবা এসএ খালেক এই আসন থেকে পাচবারের এমপি থাকায় তাদের আলাদা ভোট ব্যাংকও আছে। সবমিলিয়ে তিনিও ভোটের মাঠে ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৩ দলীয় প্রার্থী কাজী আলাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শহিদুল আলম। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, এই আসনটি কাজী আলাহউদ্দিনের নিজ এলাকা না। তিনি ২০০১ ও ২০০৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মঞ্জুর) নির্বাচন করেছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনে। তাছাড়া বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়াও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহিদুল আলম। তিনি ২০১৮ সালে তিনি ধানের শীষে নির্বাচন করেছিলেন। এলাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ছাড়াও নানান সামাজিক কাজে তিনি ছিলেন সক্রিয়। এসব কারণে এই আসটিতেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ভালো করবেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন- বিএনপির দিক থেকে শক্ত বার্তা যায়নি বলেই এত বিপুল সংখ্যক আসনে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেছেন, সব জায়গায় বিএনপি যোগ্য প্রার্থী দিতে পেরেছি কি-না সেই প্রশ্ন আছে। কিছু এলাকায় জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত কিছু নেতাকে দলটি মনোনয়ন দেয়নি। আবার শরিক দলকে যেখানে সমর্থন দিয়েছেন সেখানে দলের নেতাদের কনভিন্স করেনি। তারা হয়তো ভাবছে সবাই তো বিএনপিরই।
এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ভোটের মাঠে বিএনপি সবচেয়ে যোগ্য নেতাদের হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছে। নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। সেখানে জনপ্রিয় নেতারা এগিয়ে থাকবেন- এটাই স্বাভাবিক।