অনলাইন সংস্করণ
১৯:৫২, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। এই সুন্নাতের প্রধান অংশ ও দৃষ্টান্ত হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ১০ বছরের মাদানী জীবন এবং খোলাফায়ে রাশেদার ৩০ বছরের রাষ্ট্রব্যবস্থা। কাজেই কোনো মুসলমান ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তার বাইরে থাকতে পারে না। মদীনার আদলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আদর্শ মানুষ তৈরি করা।
আজ ১৫ আগস্ট (শনিবার) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাদানী জীবন : ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার অনুসরণীয় রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মতামত ব্যক্ত করেন।
গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল মালেক মোল্লা।
বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র ঢাকার পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদীর সঞ্চালনায় এ সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আল উম্মাহর প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আবদুল লতীফ মাসুম, ড. রেজাউল করীম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল হোসাইন।
বক্তারা আরও বলেন, নবী করিম (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর মদীনায় গিয়ে প্রথম মসজিদভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন। মদীনার ইহুদিদের সঙ্গে মদীনা সনদ স্বাক্ষর করে বহু জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সহাবস্থান এবং বহুজাতিক রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ করেন।
তারা বলেন, ২৭টি যুদ্ধে সর্বাধিনায়ক হিসেবে অংশ নিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধনীতির বাস্তব উদাহরণ পেশ করেন। শরিয়া আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজের সবল-দুর্বল সবার ক্ষেত্রে সাম্য ও ন্যায়বিচারের বিধান কায়েম করেন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার ধমনীরূপ জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে হুদুদ বা শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতোই ফরজ। কেননা, এর হুকুম সরাসরি কুরআন মজিদে দেওয়া হয়েছে।