অনলাইন সংস্করণ
১৭:৩০, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সার্ভেয়ার (আমিন) সমিতির মহাসম্মেলন।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭০০-এর বেশি সার্ভেয়ার (আমিন), সিভিল কোর্ট কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ সরকারের অধীনে জাতীয়ভাবে নিবন্ধন লাভের পর সংগঠনটির এ মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নিবন্ধন নম্বর S-15245/2026। সংগঠনের নিবন্ধন The Societies Registration Act, 1860 (Act No. XXI of 1860)-এর আওতায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইনটি ১৮৬০ সালের ২১ মে প্রণীত এবং বাংলাদেশে এখনও কার্যকর আইনভাণ্ডারে রয়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৩ নভেম্বর ২০২৪ মো. রিমন খানের নেতৃত্বে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ৩৭০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে ১৬ আগস্ট ২০২৬ জাতীয়ভাবে নিবন্ধন পাওয়ার পর সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সম্মেলনের আগে আগস্ট মাস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সার্ভেয়ার ও আমিনদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠানে মহাসম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায় বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন উপস্থাপক সোলায়মান। এরপর পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’।
মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক আমির আজম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ আলী আকবর। অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল পেশাগত শপথ। সংগঠনের সভাপতি মো. রিমন খান উপস্থিত সার্ভেয়ার-আমিনদের শপথ পাঠ করান। শপথে সঠিক ও নিরপেক্ষ ভূমি পরিমাপ, পেশাগত সততা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নৈতিকতা এবং দুর্নীতি ও জালিয়াতি পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রায়হান বক্তব্য দেন। অর্থ সম্পাদক ইসরাইল খান তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের তহবিল ব্যবস্থাপনা, সদস্যদের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে পেশাগত উন্নয়ন ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম জোরদারের বিষয় তুলে ধরেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য এবং সিভিল কোর্ট কমিশনাররা বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় ভূমি জরিপের পেশাগত সমস্যা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল ও আধুনিক সার্ভেয়িং প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কাজের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়গুলো উঠে আসে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মো. রিমন খান সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব দেন। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এ ছাড়া সংগঠনের নিজস্ব জমিতে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মহাসম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।