প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তীব্র রোদ, ধুলাবালি, গাড়ির ধোঁয়া আর নগরজীবনের ব্যস্ততায় চোখের ওপর প্রতিদিনই বাড়ছে চাপ। বিশেষ করে নগরের গরম ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় বাইরে বের হলে চোখ কুঁচকে যায়, সঙ্গে তৈরি হয় অস্বস্তি। তাই রোদচশমা এখন শুধু ফ্যাশনের অনুষঙ্গ নয়, চোখের সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।
তবে রোদচশমা মানেই চোখের নিরাপত্তা- এ ধারণা ঠিক নয়। ভালো রোদচশমা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি দীর্ঘদিন চোখে পড়লে ছানি ও অন্যান্য চোখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রোদচশমা কেনার সময় অবশ্যই ইউভি-৪০০ অথবা ৯৯-১০০ শতাংশ অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অনেকে মনে করেন, কাচ যত কালো হবে সুরক্ষাও তত বেশি হবে। আসলে তা নয়। কাচের রং বা গাঢ়ত্ব দেখে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা বোঝা যায় না। বরং মানসম্মত অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক কাচই চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ধুলাবালিতেও সুরক্ষা : ব্যস্ত শহরে নির্মাণকাজ, যানবাহন ও রাস্তার ধুলা চোখে ঢুকে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। মোটরসাইকেল, সাইকেল চালানো কিংবা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন- এমন মানুষের জন্য চোখ ঢেকে রাখা বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে চোখের পাশও কিছুটা ঢেকে রাখে এমন চারপাশ ঘেরা ফ্রেমের রোদচশমা বেশি উপকারী।
তবে চোখে ধুলা ঢুকলে রোদচশমাকে চিকিৎসার বিকল্প ভাবা যাবে না। তাই চোখ ঘষার বদলে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া ভালো। এ ছাড়া সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঝলক কমাতে বিশেষ কাচ : রাস্তাঘাট, পানি কিংবা কাচের মতো চকচকে পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত আলো চোখে ঝলক তৈরি করে। মেরুকরণযুক্ত কাচ বা পোলারাইজড লেন্স এ অতিরিক্ত ঝলক কমাতে সাহায্য করে। ফলে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো, ভ্রমণ কিংবা বাইরে খেলাধুলার সময় চোখে তুলনামূলক আরাম পাওয়া যায়। তবে মেরুকরণযুক্ত কাচ মানেই অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা নয়। তাই এ ধরনের রোদচশমা হলেও ইউভি-৪০০ সুরক্ষা আছে কি না দেখতে হবে।
ফ্যাশনে যেসব ফ্রেম : রোদচশমার ফ্রেমও এখন ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। এভিয়েটর বা বিমানচালক ধাঁচের, ওয়েফেয়ারার, চৌকো, গোল, বিড়ালচোখা ও বড় আকারের- বিভিন্ন নকশার ফ্রেম বাজারে জনপ্রিয়। তবে গোল মুখে চৌকো বা আয়তাকার ফ্রেম, চৌকো মুখে গোল বা ডিম্বাকৃতি ফ্রেম ভালো মানাতে পারে। এ ছাড়া ডিম্বাকৃতি মুখে অধিকাংশ ফ্রেমই মানানসই। তবে শেষ কথা হলো ব্যক্তিগত পছন্দ ও আরামের কথাও ভাবতে হবে।
দরদাম : বাংলাদেশের বাজারে কয়েকশ টাকা থেকেই সাধারণ রোদচশমা পাওয়া যায়। অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী বা মেরুকরণযুক্ত রোদচশমার দাম সাধারণত কিছুটা বেশি। আবার রেব্যান, ওকলি, কারেরা, ভোগ, পোলারয়েড, পুলিশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রোদচশমার দাম কয়েক হাজার থেকে শুরু। মডেল, কাচের মান ও ব্র্যান্ডভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। তবে শুধু ব্র্যান্ড দেখে রোদচশমা কেনা ঠিক নয়। বাজারে নকল ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে। তাই নির্ভরযোগ্য দোকান থেকে কেনা এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ব্যবহারে সতর্কতা : রোদে বের হলে রোদচশমা ব্যবহার করুন, তবে রাত বা আলো কম থাকা অবস্থায় গাঢ় রোদচশমা ব্যবহার করবেন না। কাচ পরিষ্কার করতে নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন এবং ব্যবহার না করলে বাক্সে রাখুন। যাদের চোখে পাওয়ার রয়েছে, তারা চিকিৎসক বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষমতার রোদচশমা ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া রোদচশমা বাছাইয়ের মূল কথা- ফ্যাশনের আগে চোখের নিরাপত্তা। সুন্দর নকশা ব্যক্তিত্বে আকর্ষণ যোগ করবে, আর মানসম্মত অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক কাচ রক্ষা করবে চোখ। তাই রোদচশমা হোক একই সঙ্গে প্রয়োজন, নিরাপত্তা ও স্টাইলের সঙ্গী।