
টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন । দণ্ডিত মেহেদী হাসান (৩৮) সখীপুর উপজেলার ইচ্ছাদিঘী গ্রামের আতিয়াপাড়া এলাকার হায়দার আলীর ছেলে।
আদেশে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। টাঙ্গাইলের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম জানান, দণ্ডিত মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন।
জুয়ার টাকা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি প্রায়ই স্ত্রী কাকলীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট সকালে মেহেদী তার বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে স্ত্রী কাকলীর পিঠে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাকলীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই নিহতের ভাই বাদল মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সখীপুর থানা পুলিশ গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি মেহেদী হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।