
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার সমস্যাকে সহজ ভাষায় ফ্যাটি লিভার বলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ বলা হয়। জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই অবস্থায় লিভারের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে কোষে জ্বালা ও ক্ষতি সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, ফ্যাটি লিভার হলে কি লিভারের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কী বলছেন, চলুন জানা যাক-
নানারকম টেস্টের মাধ্যমে অনেকের দেহেই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হয়। বিশেষত যারা অতিরিক্ত জাংক ফুড খান এবং শরীরচর্চা একদমই করেন না তাদের লিভারে চর্বি জমার হার বেশি। এসব অভ্যাসের কারণেই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হন অনেকে।
চিকিৎসকের মতে- যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। রেড মিট, চিজ ইত্যাদি অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও ফ্যাটি লিভারের একটা আশঙ্কা থাকেই।
ফ্যাটি লিভারকে একটি সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়। দীর্ঘ দিন এই সমস্যাকে অবহেলা করতে থাকলে তা থেকে গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে। এমনকি হতে পারে ক্যানসারও।
ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় কেন : চিকিৎসকের মতে, লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে শুরু করলে সেই অঙ্গে প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়। আর সেখান থেকেই নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (এনএএসএইচ) হতে পারে। এই রোগকে যত বেশি এড়িয়ে যাওয়া হবে, ততই ক্যান্সারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। চিকিৎসক বলছেন, ‘ফ্যাটি লিভার অবহেলা করতে থাকলে ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অর্থাৎ ধরা যাক, রোগী মদ্যপানও করেন না, হেপাটাইটিস সংক্রমণ নেই শরীরে, তারপরও ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকছে ১৫ শতাংশ।’ আর যারা সিরোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের লিভারে পরবর্তীকালে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে হয়ে যাচ্ছে ২০-৩০ শতাংশ। তাই মদ কম খেলে সিরোসিস হবে না, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে শুধু ফ্যাটি লিভার থেকেও সিরোসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ ফ্যাটি লিভারের রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার হওয়া আশ্চর্যের নয়। ফ্যাটি লিভারকে তাই কোনোভাবেই অবহেলা করতে নিষেধ করছেন চিকিৎসক। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এই রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।