প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্ত্রী বসে মোবাইল টিপছে। এ সময় স্বামী এসে বললো- পাঁচ হাজার টাকা বের করে আনো তো।
স্ত্রী বিস্ময়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো- এখন পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কি করবে?
স্বামী- বাবার জন্য পাঠাতে হবে।
স্ত্রী বিরক্ত হয়ে জানালো- আলমারির চাবি খুঁজে পাচ্ছি না। তাই টাকাও বের করা যাবে না।
স্বামী একটু ভেবে নিয়ে বলে উঠলো- বড় মুশকিল দেখছি! আচ্ছা, কি আর করা? বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেই।
স্ত্রী খুশির সাথে সম্মতি দিলো- তা-ই দাও।
স্বামী মিছেমিছি ফোন করে- হ্যালো। সরি বাবা, আপনার মেয়ে আলমারির চাবি হারিয়ে ফেলেছে। তাই টাকা বের করা যাচ্ছে না। নইলে আমার কিন্তু টাকা পাঠাতে সমস্যা ছিলো না।
স্ত্রী শুনে চেচিয়ে উঠলো- কি বলছো! আমার বাবার জন্য টাকা পাঠাবে, সেটা আগে বলবে না?
স্বামী স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো- আগে বললে কি চাবি হারাতো না?
স্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বললো- হারালেও বিকল্প তো আছে। দাঁড়াও, আমি টাকা আনছি।
কথা শেষ করেই স্ত্রী পাশের কক্ষে চলে গেল। স্বামী বসে অপেক্ষা করছে। একটু পরে ১০ হাজার টাকা হাতে ফিরে এসে স্ত্রী বললো- শোনো। পাঠাবেই যখন, পাঁচ হাজারে কি হবে? ঈদের কেনাকাটার ব্যাপার স্যাপার। পাঁচ হাজারে কিছুই হবে না। তাই এই ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দাও।
স্বামী খুশি হয়ে- হ্যাঁ, ঠিক বলেছো। ১০ হাজার পাঠালে ঈদের কেনাকাটাও হয়ে যাবে। চমৎকার আইডিয়া দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
স্ত্রী আনন্দের সাথে টাকাটা স্বামীর হাতে দিলো। টাকা হাতে স্বামীও বেরিয়ে গেল।
পরদিন নাস্তা খেতে বসে স্ত্রী স্বামীকে বলে উঠলো- তুমি না বলেছো, বাবাকে টাকা পাঠিয়েছো। কই, বাবাতো অস্বীকার করলো।
স্বামী জিজ্ঞেস করলো- কোন্ বাবা?
স্ত্রী- কেন, আমার বাবা।
স্বামী- উনাকে তো টাকা পাঠাইনি। তাইলে স্বীকার করবেন কেন?
স্ত্রী- পাঠাওনি মানে? ১০ হাজার টাকা নিয়ে কি করেছ?
স্বামী- বাবাকে পাঠিয়েছি।
স্ত্রী- তার মানে, তোমার বাবাকে পাঠিয়েছো?
স্বামী- বাবা তো বাবাই। একজনের বাবা হলেই তো হলো।
স্ত্রী- আমাকে ধোকা দিলে কেন?
স্বামী- ধোকা তো আমি দেইনি। দিয়েছো তুমি। তাই ভাবছি, এখন থেকে টাকার চাবিটা আর তোমার কাছে থাকবে না। সেটা আমিই রাখবো। শুনে স্ত্রীর মুখে যেন কালি পড়ে গেল।