প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২০ জুন, ২০২৬
কোনো কোনো জরিপে, পৃথিবীর সর্বাধিক পঠিত ও বিক্রিত উপন্যাসের নাম ‘মা’। পৃথিবীর সব দেশে, সব ভাষাভাষীর মধ্যে, সব ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে ‘পাভেল’ নাম্নী যুবকের সন্ধান পাওয়া যাবে। অনেকেরই ধারণা নেই যে, এটি ‘মা’ উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রিয় চরিত্র পাভেলের নামানুসারে রাখা হয়ে থাকে। ‘মা’ উপন্যাসের পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত প্রভাবের এটি একটি দিক। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি শোষিত, বঞ্চিত মানুষের মুক্তির লড়াইতে অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে বিবেচিত হয়ে এসেছে ‘মা’ উপন্যাস। এখনও এই চিন্তাধারা বহমান। পাশাপাশি শৈল্পিক বিবেচনাতেও এই উপন্যাসকে পাঠ করতে হয় রুশ তথা সারা পৃথিবীর সাহিত্যপ্রেমীদের। সাহিত্যিক মতাদর্শ হিসাবে একসময় আবির্ভূত হয়েছিল ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতাবাদ’। সেই মতাদর্শের পরিপূর্ণ ধারক সাহিত্যিক-মডেল হিসাবে বিবেচনা করা হয় ১৯০৬-০৭ সালে রচিত এই উপন্যাসটিকে।
উপন্যাসের আলোচনায় প্রবেশের আগে লেখক মাক্সিম গোর্কি প্রসঙ্গে কিছুটা আলোকপাত করা প্রয়োজন।
মাক্সিম গোর্কির জন্ম মধ্যরাশিয়ার ভোলগা নদীতীরবর্তী নিজ্নি নোভ্গরদ শহরে। ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ। তারিখটি বর্তমান ক্যালেন্ডারের হিসাবে দাঁড়াবে ১৬ মার্চ। (সেকালে রুশ দেশে ব্যবহৃত জুলিয়ান পঞ্জিকা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা থেকে ১২ দিন পিছিয়ে ছিল)। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আলেক্সিয়েই মাক্সিমোভিচ পেশকভ। মাক্সিম গোর্কি তাঁর নিজের গ্রহণ করা ছদ্মনাম। লেখক জীবনের শুরু থেকেই তিনি এই নাম ব্যবহার করেছেন। ফলে বিশ্ববাসী তাঁকে এই নামেই চেনে। পিতা মাক্সিম সাভ্ভাতেভিচ পেশকভ ছিলেন আস্ত্রাখান শহরের স্টিমশিপ কারখানার ছুতারমিস্ত্রি। মা ভারভারা ভাসিলিয়েভনা পেশকভা। লেখকের চার বছর বয়সের সময় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে পিতার মৃত্যু ঘটে। সহায় সম্বলহীন মা তাঁদের দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নিজ পিত্রালয়ে চলে আসতে বাধ্য হন। পথের মধ্যে স্টিমারে মৃত্যু ঘটে ছোট ভাইটির। একমাত্র জীবিত সন্তান গোর্কিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর মা আশ্রয় নেন পিতা-ভ্রাতাদের কাছে। গোর্কির কৈশোরের একটি পর্যায় কেটেছে নানাবাড়িতে। অন্ধকারময় একটি কৈশোর। এখানে কিশোরের জন্য একমাত্র মানসিক আশ্রয় ও শান্তির জায়গা ছিলেন তার দিদিমা। কুরুশ-কাঁটায় সুতার কাজে খুবই দক্ষ ছিলেন দিদিমা। সেই সঙ্গে রুশ লোককথা, লোককাহিনী, রূপকথা আর লোকসঙ্গীতের এক অফুরন্ত স্মৃতিভাণ্ডার ছিলেন তিনি। কুরুশ বুনতে বুনতেই তিনি কিশোর নাতিকে শোনাতেন সেইসব লোকজ গল্প-গাথা-সঙ্গীত। দিদিমার মুখে শোনা ছড়া, লোককথা, রূপকথা, লোককাহিনীর কারণেই সম্ভবত গোর্কির সাহিত্যের এক বিরাট অংশজুড়ে রূপকথা ও লৌকিক উপাদানের এত প্রাচুর্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন গোর্কি। কিন্তু স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। প্রথম কারণ, তাঁর নানা কোনো খরচ দিতে রাজি হননি। দ্বিতীয় কারণ, নানার বাড়িতে পড়াশোনার কোনো পরিবেশই ছিল না, বা পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তার কথা কেউ ভাবত না। আর তৃতীয় কারণ হচ্ছে, মামারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ নিয়ে এমন নারকীয় পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন যে কিশোর গোর্কির পক্ষে বাড়িতে তিষ্টানো ছিল খুব কঠিন। ফলে তিনি বখাটেদের সাথে মিশে ঘুরে বেড়ানোর পথটাকেই বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুলের বাঁধন ছিন্ন হলেও কোনো এক অজ্ঞেয় কারণে বইয়ের প্রতি তাঁর আসক্তি তৈরি হয়, এবং তিনি নিজে নিজেই লেখাপড়া করতে থাকেন। সম্পূর্ণই স্বশিক্ষিত এক মানুষ বলা যায় গোর্কিকে। আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ বা কাজী নজরুলকে যে অর্থে স্বশিক্ষিত বলা হয়ে থাকে, গোর্কির ক্ষেত্রে সেই অর্থটি খাটে না। তিনি কোনোদিন কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী বা বিদ্যোৎসাহীর কাছ থেকে কোনো অনুপ্রেরণা পাননি। তৎকালীন রাশিয়ার যে ধরনের নিম্নবিত্ত শিক্ষাবিমুখ পরিবারে গোর্কির বেড়ে ওঠা সেই পরিবেশের বৈশিষ্ট্য ছিল চরম উচ্ছৃঙ্খলা, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, নিগ্রহ, অনাচার, মাতলামি, নিষ্ঠুরতা। এককথায় বলা চলে, তাঁর হওয়ার কথা ছিল আকাট মূর্খ, নীতিজ্ঞানহীন, মদ্যপ, গুন্ডা কিসিমের কোনো যুবক। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি হয়ে উঠলেন প্রাতঃস্মরণীয় একজন লেখক। এক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র পাথেয় ছিল অপরিসীম জ্ঞানতৃষ্ণা। বেঁচে থাকার জন্য সেই কিশোর বয়স থেকে কোন কাজটি করেননি তিনি! কাজ করেছেন মুচির দোকানে, রুটির দোকানে ও কারখানায়, বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে, চাকরি করেছেন মুদি দোকানের বাঁধা মজুর হিসাবে, মানুষের বাগানে কাজ করেছেন মালী হিসাবে, স্টিমারের হেঁসেলে করেছেন বয়-বেয়ারাগিরি, জেলেদের মাছের আড়তে পাহারাদার, তাদের নৌকায় গুনটানার কাজ, রেলস্টেশনে দারোয়ানগিরি। অনেক পরে, যখন তিনি লেখক হিসাবে খ্যাতির তুঙ্গে, সেই সময় আন্তন চেখভকে এক চিঠিতে গোর্কি লিখেছিলেন- ‘দশ বছর বয়স থেকে আমাকে নিজের রাস্তা বেছে নিয়ে চলতে হয়েছে। লেখাপড়া যে শিখব তার জন্য কোনো পয়সাকড়ি ছিল না। আমি কেবল জীবন আর কাজ গলাধঃকরণ করেছি। এর বাইরে আর কিছুই করতে পারিনি, আর জীবন তার কিল-চড়-ঘুষি মেরে আমাকে তাতিয়ে রেখেছে।’ এমন অমানুষিক পরিশ্রম এবং অমানবিক জীবনযাপনের মধ্যেও নিজেকে ভেঙ্গে পড়তে দেননি তিনি। এসবের মধ্যেই চালিয়ে গেছেন পড়ার কাজ। তাঁর প্রতিদিনের কাজের সময় ছিল অনেক দীর্ঘ। যেমন স্টিমারের রান্নাঘরে তাঁকে কাজ করতে হতো সকাল ছয়টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু এখানেও তাঁর বই পড়ার বিরাম ঘটেনি। সৌভাগ্যক্রমে সেই স্টিমারের বাবুর্চি নিজেও ছিল গ্রন্থপ্রেমী। গোর্কির কাজ ছিল তাকে বই পড়ে শোনানো। অবশ্য বই পড়াতে তার কোনো বাছবিচার ছিল না। বেশিরভাগই ছিল বটতলার গ্রন্থ। কিন্তু তাতেও গোর্কির কোনো অনীহা ছিল না। বই পড়তে পেলেই হলো।
কাজের সূত্রেই তিনি কাজান শহরে এলেন ১৮৮৪ সালের শেষদিকে। এই শহরেই তিনি জীবনে প্রথম এমন কিছু মানুষের সঙ্গ লাভ করেন, যারা তাঁর লেখাপড়ার জন্য কিছুটা আনুকূল্য দান করেছিলেন। কাজান শহরে তিনি চার বছর অবস্থান করেছিলেন। এই সময়টাতেই তিনি পাঠ করার সুযোগ পান রুশ ধ্রুপদী লেখকদের রচনা। পড়েছিলেন সৃজনশীল সাহিত্য, সাহিত্যালোচনা, দর্শন, চিন্তাবিদদের বিতর্ক ইত্যাদি। এই সময়েই তিনি মার্কস ও অ্যাঙ্গেলস-এর রচনার সাথে পরিচিত হন। মার্কস-অ্যাঙ্গেলস-এর পৃথিবী বদলে দেওয়া যৌথ ইশতেহার ‘কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো’ পাঠ করার সুযোগও প্রথম পেয়েছিলেন এই সময়েই।
১৮৮৮ থেকে ১৮৯২ সাল পর্যন্ত মাক্সিম গোর্কি ঘুরে বেড়ান রাশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শৌখিন ভ্রমণ নয়। পায়ে হেঁটে ঘোরা। কাজ করেছেন আর ঘুরে বেড়িয়েছেন। এই ভ্রমণের ফলে ভলগা ও দন নদীর অববাহিকাজুড়ে বিশাল এলাকার মানুষজন, সমাজ, আর্থসামাজিক অবস্থা, আচরণ ও অভ্যাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। সবই পরে কাজে লেগেছিল সাহিত্যসৃষ্টিতে। অনেক বছর পরে সমসাময়িক কথাসাহিত্যিক লিওনিদ লিওনভকে তিনি একটি চিঠিতে লিখেছিলেন- ‘আমি দেখতে ভালোবাসি মানুষের বেড়ে ওঠা।’ সেই মানুষের বেড়ে ওঠা দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ছিল এই ভ্রমণকাল।
১৮৯২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসের দৈনিক কাফ্কাজ (ককেশাস) পত্রিকায় ছাপা হলো ‘মাকার চুদ্রা’ নামে একটি গল্প। লেখকের নাম মাক্সিম গোর্কি। এই দিনটিকে গোর্কি তাঁর সাহিত্যযাত্রার সূচনাবিন্দুরূপে গণ্য করতেন। আলেক্সিয়েই মাক্সিমোভিচ পেশকভকে বিদায় দিয়ে এই দিনেই আবির্ভূত হলেন মাক্সিম গোর্কি। গোর্কি শব্দের অর্থ ‘তিক্ত’ বা কটূস্বাদ’। এই নাম গ্রহণের পেছনে নিশ্চয়ই নিজের বঞ্চিত ও দুঃখী জীবন কাজ করেছিল। পত্রিকার দপ্তরে বসেই তিনি উদ্ভাবন করেছিলেন নিজের ছদ্মনাম। আর প্রথম লেখার অনুপ্রেরণা দানকারী হিসাবে তিনি জর্জিয়ার একজন গৃহবন্দি বিপ্লবীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আলেকজান্ডার কালিউজনি। গোর্কির জীবনের বর্ণিল ও কষ্টকর জীবনের গল্প শুনতে শুনতে এই বিপ্লবীই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সেই সব অভিজ্ঞতা লিখে ফেলতে।
তারপর প্রকাশিত হতে থাকে একের পর এক লেখা। ১৮৯৫ সালে লিখলেন ‘শিকারী পাখির গান’। এই কাব্যিক গদ্য রচনাটি তাঁকে প্রায় রাতারাতি বিখ্যাত করে তোলে। বহু পূর্বে আলেকজান্ডার পুশকিনের লেখার ক্ষেত্রে যেটি ঘটত, গোর্কির এই রচনাটির ভাগ্যেও সেই অসাধারণ ঘটনাটি ঘটেছিল- হাতে কপি করে লোকেরা নিজেদের মধ্যে বিলি করেছে ‘শিকারী পাখির গান’। একই ঘটনা ঘটেছে ১৯০১ সালে লেখা ‘ঝড়ের পাখির গান’ রচনাটির ক্ষেত্রেও। এর মধ্যে ১৮৯৬ সালে রচিত ও প্রকাশিত ‘চেলকাশ’ গল্পটি ছিল রুশসাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যে এক অসাধারণ সংযোজন।
১৮৯৯ সালে রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম আবির্ভাব ঘটে গোর্কির। রাজধানীবাসী লেখকদের সঙ্গেও তাঁর প্রথম পরিচয়ের সুযোগ ঘটে সেখানেই। রাজধানীর নগর পরিষদের হলঘরে অনুষ্ঠিত সাহিত্য ও সঙ্গীত সন্ধ্যায় তিনি পাঠ করেন ‘শিকারী পাখির গান’। বিপুলভাবে অভিনন্দিত হলেন সেদিন।
১৮৯৮ সালে প্রকাশিত হলো প্রথম পুস্তক। দুই খণ্ডের গল্প সংকলন ‘রেখাচিত্র ও গল্পাবলি’। প্রতিখণ্ডে ১০টি করে গল্প। তাঁর লেখা নাটক ‘পেটি বুর্জোয়া’ প্রথম অভিনীত হয় রাজধানী শহরের থিয়েটার সেন্টারে ১৯০২ সালের ১৯ মে তারিখে। নাট্যজগতের কিংবদন্তি স্তানিস্লাভস্কি স্বয়ং অংশ নিয়েছিলেন অভিনয়ে। ব্যাপক সাড়া তুলেছিল এই নাটক। নাটকের সহকারী পরিচালক দানচিয়েন্ক এবং স্তানিস্লাভস্কি এ প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘আমরা নাট্যামোদী শৌখিন নাগরিকদের অকল্পনীয় দ্রুততায় অবহিত করেছিলাম এবং দূতাবাস ও সরকারি উচ্চপদস্থ আমলাদের পরিবার থেকে সব রকমের আসন সংরক্ষণের জন্য যে-পরিমাণ অনুরোধ পেয়েছিলাম তাতে আমরা হতবাক। নাটকটি দেখতে বিশিষ্ট, নামিদামি ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী যে ধরনের দর্শক আমরা পেয়েছিলাম তা ইউরোপের কোনো সম্মেলনে ঘটে ওঠাই স্বাভাবিক ছিল’।
প্রথম লেখা প্রকাশের দশ বৎসরের মধ্যেই মাক্সিম গোর্কি রাশিয়ার সাহিত্যজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত হন। লেভ তলস্তয় এবং আন্তন চেখভের মতোই তাঁর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা হয়ে দাঁড়ায় আকাশছোঁয়া। এমনকী গোর্কি তখন যে পোশাক পরতেন, সেই পোশাকটিও সমাজের অনেক স্তরের স্টাইলিস্ট মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে ওঠে। তিনি পরতেন নীল রঙের গলাবন্ধ কোর্তা, বোতামণ্ডআঁটা হাতা, চাষাভূষাদের কানাততোলা বুটজুতা। সেই পোশাক হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্বের প্রতীক। অথচ তখনো তিনি ‘মা’ উপন্যাস রচনা করেননি।
১৯০৬ সালে জার সরকারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে তিনি প্রথমে রাশিয়া ছেড়ে ফিনল্যান্ডে চলে যান। পরে সুইজারল্যান্ড হয়ে আমেরিকায়। সেখানেই রচিত হয় অবিস্মরণীয় ‘মা’ উপন্যাসটি।
বস্তুত রুশ সাহিত্য পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে প্রতিভার মিছিল। তারপরেও রাশিয়ার সাহিত্যজগতে মাক্সিম গোর্কির স্থান অনেক উঁচুতে। সাধারণ মানুষ যেমন তাঁর রচনা পাঠ করেছে গভীর সহমর্মিতার সাথে, তেমনই বিদগ্ধ সমালোচকরাও তাঁকে স্থান দিয়েছেন অনেক উঁচুতে। রুশসাহিত্যের প্রথম লেখক হিসাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ইভান বুনিন। সেই বুনিনের চাইতে সমকালীন গোর্কিকে অনেক ওপরের স্তরের লেখক বলে দাবি করতেন রুশবাসী। এই প্রসঙ্গে নন্দনতাত্ত্বিক মারিয়া তস্ভেতায়েভা তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন- ‘নোবেল পুরস্কার। ২৬ তারিখে অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকব বুনিনের সম্মানে। প্রতিবাদের দায় এড়িয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিবাদ আমি করছি না। আমি শুধু বলতে চাই যে আমি একমত নই। কেননা, বুনিনের চাইতে নিঃসন্দেহে বড় তো বটেই- অনেক বড়, অনেক মানবিক, অনেক বেশি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়ও বটে- গোর্কি। গোর্কি একটি যুগ, বুনিন একটি যুগের অবসান। কিন্তু যেহেতু এটা রাজনীতি, যেহেতু সুইডেনের রাজা কমিউনিস্ট গোর্কির গলায় পদক ঝোলাতে পারেন না, অগত্যা’।
নোবেল পুরস্কার পাননি মাক্সিম গোর্কি। তার চাইতে বড় পুরস্কার পেয়েছেন। সে পুরস্কার হচ্ছে বিশ্ব মানবতার মুক্তিযাত্রার সহযোদ্ধার স্বীকৃতি।