ঢাকা রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হাটহাজারীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে দুর্ভোগ

হাটহাজারীতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলা উত্তর মার্দাশা ইউনিয়নের দক্ষিন বাড়িয়াঘোনা ও উরকিছড় দুই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা একটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সড়ক। প্রতিদিন শতশত মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি খালের ওপর নির্মিত সরু ব্রিজ বা সেতুটি দিয়েই চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে। সেতুটি এতটাই সংকীর্ণ যে একসঙ্গে দুইজন মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। সেতুর দুই পাশে রয়েছে অস্থায়ী রেলিং, যা অনেক জায়গায় দুর্বল এবং ভাঙা। নিচে গভীর পানি থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি শুধু দুই গ্রামের সংযোগ নয়; এটি পুরো এলাকার প্রাণরেখা। বাজার, স্কুল, মাদ্রাসা, চিকিৎসা কেন্দ্র- সবকিছুতেই যেতে হলে এই সেতু পার হতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক ধরনের প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুলে যায়। একটু অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি। একই ধরনের কথা জানায় স্থানীয় এক স্কুলছাত্রী। সে বলে, বৃষ্টির সময় সেতুটা খুব পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন হাঁটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ভয় লাগে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর ওপর পানি জমে থাকে, পিচ্ছিল হয়ে পড়ে চলাচলের পথ। এছাড়া নদীর পানি বেড়ে গেলে সেতুর নিচ দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে যায়, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, এই সেতুটা বহু বছর ধরে এভাবেই আছে। আমরা অনেকবার বলেছি নতুন করে একটি মজবুত ব্রিজ নির্মাণের জন্য, কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি। এলাকার ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ভারী মালামাল নিয়ে সেতু পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও সেতু দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা জরুরি। কারণ এটি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা। এই বিষয়ে উপজেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমি যোগদান করেছি কিছুদিন হয়েছে। তবে এই ব্রিজটি আইডিতে অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা দেখব। যদি আইডিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকে তাহলে শীর্ঘই অন্তর্ভুক্ত করে যথাযত কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করা হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আশ্বাস নয়; তারা চান দ্রুত বাস্তবায়ন। কারণ প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে চলাচল করা মানেই জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। উরকিরচর ও বাড়িয়াঘোনার হাজারো মানুষের ভরসা এই একমাত্র সংযোগ সড়কটি যেন আর দুর্ভোগের কারণ না হয়ে ওঠে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। নিরাপদ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত