ঢাকা রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাঙ্গুনিয়ায় ফের চালু হলো এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক

রাঙ্গুনিয়ায় ফের চালু হলো এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের আওতাধীন এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার গত ৫ আগস্ট বিদায় নেওয়ার পর থেকে ইকো পার্কটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং এর সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সবুজ পাহাড় আর মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এই ইকো পার্ক গত ২১ ফেব্রুয়ারি চালু হয়েছে। সামনে আসন্ন বিভিন্ন উৎসবে আবারও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের কোদালা বিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২১০ হেক্টর এলাকাজুড়ে রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কটির উদ্বোধন করা হয়। পার্কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের প্রথম রোপওয়ে ক্যাবল কার যা ২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। উঁচু-নিচু পাহাড়ের মাঝপথ দিয়ে বয়ে গেছে এই ক্যাবল কারটি। পার্কের অভ্যন্তরে রয়েছে স্বচ্ছ পানির কৃত্রিম হ্রদ। হ্রদের আশপাশে সবুজ বনায়ন। সরেজমিন দেখা যায়, পার্কে স্বল্পসংখ্যক পর্যটক রয়েছে। পার্কের ফরেস্টার হাসিবুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর পার্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। পার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ক্যাবল কার অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই ক্যাবল কার বন্ধ থাকায় পর্যটকরা অনেকে হতাশা ব্যক্ত করছেন। কবে নাগাদ এটি আবার চালু হবে তা এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি। পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা আশরাফ আলী, করিম গণি ও রিদুয়ান জানান, তারা পার্কের বিভিন্ন স্পট ভ্রমণ করেছেন। সবুজ বাগান, উঁচু নিচু পাহাড়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বসার তোরণ, মিনি চিড়িয়াখানা ও পাখি দেখে খানিকটা বেড়ানোর স্বাদ নেওয়া যাচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় ইকোপার্কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্যাবল কার চালু করা, চিড়িয়াখানায় পাখি আনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে আবারও প্রাণচঞ্চল ফিরে পাবে ইকো পার্কটি। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পার্কে কোটি কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। পার্কে ক্যাবল কার ছাড়াও সবুজ পাহাড়ের কোলে কৃত্রিম হ্রদ সহ আকর্ষণীয় আরও অনেক কিছু রয়েছে। আশা করি পর্যটকরা এখানে এসে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পাবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত