
চট্টগ্রাম হাটহাজারী পৌরসভা নয়টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত। এই নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌরসভার বাসিন্দারা মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখছেন, এতেও মুক্তি মিলছে না। মশার জ্বালায় শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেক মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পৌর শহরের বিভিন্ন হাটবাজার অলিগলিতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়োমিত পরিষ্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ড লোকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখের অধিক বিশাল এই জনগোষ্ঠীর বসবাস। এটি চট্টগ্রামে নগর ঘেঁষা হওয়ায় নিয়োমিত জনসংখ্যা বাড়ছে। ফলে জায়গায় সংকুলন না হওয়ায় ডাস্টবিনের সল্পতার কারণে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে পৌরবাসী। ফলে বর্ষায় বৃস্টির পানিতে ময়লার স্তূপ জমে প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যার পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিকভাবেও মশা প্রজনন ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভাও মশা নিধন করছে না। ফলে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব।
পৌরবাসীর জানান, আগে নিয়োমিত পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধক ওষুধ স্প্রে করা হতো। কিন্তু এক থেকে দুই বছর হলো পৌরসভার নিয়োমিত কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। ফলে মশা বাড়ছেই। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় অধিকাংশ মহল্লাতেই ছড়িয়ে আছে নালা। বেশীর ভাগ ময়লা আর্বজনা জমে আছে এসব নালার ওপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে মশা।
পৌরসভার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও মশা কমছে না। মশার কামড়ে সন্ধ্যা থেকেই অতিষ্ঠ হতে হয়। কয়েল, ধোঁয়া কিছু দিয়েই কিছু হচ্ছে না। পৌরবাসী নাসরিন আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শুধু রাতে না, দিনেও ঘর একটু অন্ধকার হলেই মশা কামড়াচ্ছে।