ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হরিপুরে এক কাতার গায়েবি মসজিদ

মোস্তফা কামাল গাজী
হরিপুরে এক কাতার গায়েবি মসজিদ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনীসাগর গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এক কাতারের গায়েবি মসজিদ। মসজিদটির অবস্থান হরিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি. দূরে মন্নটুলী চৌরাস্তা থেকে বনগাঁওগামী পাঁকা সড়কের ডান পাশে মেদনীসাগর গ্রামে। এলাকার প্রবীণদের মতে, মসজিদটি সুলতানি আমলেরও আগে নির্মিত হয়েছে। এ মসজিদ নিয়ে রয়েছে নানান রূপকথা ও অলৌকিক গল্প কাহিনি। মসজিদটির নির্মাণকাজ নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য না জানা গেলেও গ্রামবাসী ও এলাকার প্রবীণদের মতে এটি প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬০০ শতকে নির্মাণ হতে পারে। অনেকের মতে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহর শাসনামলে তার কমান্ডার খান গাজী ও হজরত শাহ জালাল (রহ.)-সহ ৩৬০ জন আউলিয়ার প্রচেষ্টায় সিলেট জয়ের পর সিলেটের শাসক গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে পুত্র হজরত শাহ জালাল (রহ.) সিলেট থেকে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করে এ সময় তারা ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করে। তাই এ সময়ও নির্মাণ হতে পারে এই মসজিদটি।

তবে এটি যে সঠিক তা নাও হতে পারে। এলাকার সবার কাছে এটি গায়েবি ও এক কাতার মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটির আকর্ষণ হচ্ছে বিশেষ ডিজাইনে তৈরি ৩টি গম্বুজ ও চার কোণায় ৮টি মিনার সদৃশ্য বুরুজ। গম্বুজ ৩টি ছাদ থেকে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং ২ ফুট লম্বা চুড়া। ভূমি থেকে প্রতিটি বুরুজের উচ্চতা ১০ ফুট। অনেকটা সুলতানি আমলের মিনারের মত। বাইরের দিক থেকে মসজিদের দৈর্ঘ্য সাড়ে একত্রিশ ফুট এবং প্রস্থ চৌদ্দ ফুট। ভেতরের দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট এবং প্রস্থ ছয় ফুট। শুধু এক কাতারেই নামাজ পড়া যায়। মিহরাব ও মিম্বার আছে একটি করে। দুটো জানালা, তিনটি দরজা, আটটি কুলুঙ্গি, তিনটি খিলান রয়েছে ভেতরে। মসজিদের চার কোণে চারটি কৌণিক থামের নিচে ঘড়া আছে। এছাড়া মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে দুটো করে চারটি থাম রয়েছে। এই মসজিদের সঙ্গে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ফতেহপুর মসজিদের স্থাপত্যের মিল রয়েছে। মসজিদটিতে একসঙ্গে এক কাতারেই ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে।

বর্তমানে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখানে নামাজ পড়ে। মসজিদে জায়গার অভাবে মসজিদের মূল ভবনের সামনের অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন ভবন সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মাটি খোঁড়ার সময় মসজিদের মূল ভবনের সামনে ৩-৪ ফুট নিচের দিকে ছাই, ইট, পাথর ও কয়লা পাথর পাওয়া যায়। এটির কাজ সম্পন্ন করা হলে একসঙ্গে প্রায় ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আব্দুল্লাহিল বাকি বলেন, আমার বয়স ৩০ বছর আমার বাপ-দাদারাও বলতে পারে না এটি কে কবে তৈরি করেছিল। এমন কি তাদের পূর্ব পুরুষরাও বলতে পারত না এ মসজিদটির রহস্য। তাই আমরা এলাকার অনেকে গায়েবি এক কাতার মসজিদ বলেই জানি।

জফুর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে শুনেছি, এই মসজিদটির বয়স প্রায় ৪-৫ শত বছর হতে পারে। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন। আমরা গ্রামবাসী সকলে মিলে এর দেখভাল করি এবং মেরামত করে নামাজ পড়ি।

সংশ্লিষ্ট বর্তমান ১নং গেদুড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ. হামিদ বলেন, আমিও শুনেছি এটি গায়েবি মসজিদ। এর ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষণ করা উচিত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত