ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নওগাঁয় নিত্যপণ্যের মূল্যে অস্থিরতা

নওগাঁয় নিত্যপণ্যের মূল্যে অস্থিরতা

রমজান মাসের প্রাক্কালে নওগাঁয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মুরগি, শাকসবজি ও ইফতারসামগ্রীর দামে ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ পৌর মুরগি বাজার পরিদর্শনে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দামও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়। বিক্রেতাদের দাবি, খামার পর্যায়ে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের পাশাপাশি চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

শুধু মুরগিই নয়, শাকসবজির বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক সপ্তাহ আগে যে বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা বর্তমানে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। লেবু হালিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। করলার দাম কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যদিও অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যেও মূল্যবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। রসুন, যা আগে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও একই পর্যায়ে পৌঁছেছে। পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ সাধারণ মানের খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোলা, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও স্থিতিশীল রয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি বছর রমজান ঘিরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করে থাকে। নিয়মিত ও কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে এ প্রবণতা পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে অতিরিক্ত ক্রয়চাহিদার কারণেই সাময়িকভাবে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই এবং পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, বাজার সহনীয় রাখতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সার্বিকভাবে, রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক। কার্যকর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত