
৭৪ বছর আগের ভাষা আন্দালনের পথ ধরে স্বাধীনতা ৫৪ বছর পেরিয়েছে দেশে। এরপরও লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৯০ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের স্মরণে তৈরি করা হয়নি শহিদ মিনার। এতে করে ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজও শহিদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। যে কারণে, তাদেরকে বাঁশ-কাঠ-ককসিট, কলাগাছ ও মাটি দিয়ে শহিদ মিনার তৈরি করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় শহিদদের স্মরণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি তাদের। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন ও মাদ্রাসা মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪১টি। এর মধ্যে তিনটি কলেজ, তিনটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চারটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩টি কিন্ডার গার্টেন, ১৪টি দাখিল-আলিমণ্ডকামিল মাদ্রাসা ও ১২টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি কলেজ ও ১২টি বিদ্যালয় ছাড়া অপর ১২৭টি প্রতিষ্ঠানে আজও শহিদ মিনার নির্মিত হয়নি। শহিদ মিনারের বালাই নেই কোনও মাদ্রায়। একই অবস্থা কিন্ডার গার্টেনগুলোরও।
জানা গেছে, শহিদ মিনার না থাকায় প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বাঁশ-কাঠ, আবার কোথাও কলাগাছ ও মাটি দিয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে সেখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। যে কারণে, মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথাযথ ধারণা নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শরিফ হোসেন জানান, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহিদ মিনার না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছে। এতে শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহিদ মিনার নির্মাণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক পরিষদ ও সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সভাপতি মিজানুর রহমান মানিক জানান, রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ৭৪ বছর ফূর্তি হলেও উপজেলার সবকটি মাদ্রাসা শহিদ মিনারবিহীন থাকা খুবই দুঃখজনক। তাই শহিদ মিনারবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিদ্রুত শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান জানান, একটি উপজেলায় এতো বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকা আসলেই দুঃখজনক। তাই, শহিদ মিনারবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।