ঢাকা বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পুনরায় বেরোবিতে হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট নির্মাণ শুরু

পুনরায় বেরোবিতে হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট নির্মাণ শুরু

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নির্মাণাধীন ১০তলা বিশিষ্ট প্রস্তাবিত বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম আবারও শুরু হলো। ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবন দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শাহজামান, পরিবহন পুলের পরিচালক মো. মাসুদ রানাসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত কাজ শেষ করে অবকাঠামোগত সংকট দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পের নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি করে নতুন বরাদ্দের আবেদন জানানো হলে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্মাণকাজ স্থগিত করে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, উপাচার্য ড. একেএম নূর-উন-নবীর সময়ে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগোচ্ছিল। সে সময় শেখ হাসিনা হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণকাজ পাঁচতলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয় এবং স্বাধীনতা স্মারকের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল।

তবে পরবর্তী উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সময়ে নির্মাণাধীন দুটি ভবনের নকশা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে নির্মাণ ব্যয় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবনের নির্মাণ ব্যয় ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, শেখ হাসিনা হলের ব্যয় ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণ ব্যয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্মাণকাজ বন্ধ করে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত