
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে উপাচার্য বরাবর ৯ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘সাদা দল’। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি পেশ করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে উপাচার্যের পিএস আব্দুল্লাহ-আল মামুন এবং সত্য অনুসন্ধান কমিটিতে দোষী সাব্যস্ত উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ প্রদান। উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে ২৭ জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সাদা দলের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নির্বাহী আদেশে কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ, আলমগীর কবির, কাউসার আহমেদ, আতাউল আজম (চপল), রেজিনা আক্তার ও রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে জারি করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনের স্ট্যান্ড রিলিজ প্রত্যাহার করে তাকে পূর্বের কর্মস্থল রেজিস্ট্রার দপ্তরে পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়। স্মারকলিপিতে বর্তমান প্রশাসনে কর্মরত ‘আওয়ামীপন্থী’ কর্মকর্তাদের বদলি এবং গ্রেড-সংক্রান্ত বৈষম্য দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্টের পর আবেদন করা সত্ত্বেও গ্রেড বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নির্বাচন ডিউটি পালনে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলা হয়। এছাড়া, বিগত সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া পাওনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাদা দলের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা- অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, গ্রন্থাগারিক ড. মোহা. আজিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসানের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তাদের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন।