ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পণ্ডিত জয় গোপাল তর্কালঙ্কারের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি

পণ্ডিত জয় গোপাল তর্কালঙ্কারের বসতভিটা সংরক্ষণের দাবি

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পণ্ডিত জয় গোপাল তর্কালঙ্কারের বসতভিটাসহ জমিদারদের শেষ চিহ্নটুকু। কালের সাক্ষী হিসেবে এখনও যে স্থাপনাগুলো আছে তা ইতিহাসেরই অংশ।

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামটি বার জমিদারের ষোল আনা অংশের একানা জমিদারী অংশ ছিল এই গ্রামে। জমিদারদের পূর্ব পুরুষ এক বিখ্যাত ব্যক্তি ছিল তার নাম জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। তিনি ১৭৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কেবলরাম তর্কাপঞ্চানন। তিনি ছিলেন নাটোর রাজ্যের সভাপণ্ডিত। তৎসময়ে জয়গোপাল তর্কালঙ্কার সূধী সমাজে পরিচিত ছিলেন একজন সংস্কৃত পণ্ডিত হিসেবে। পিতার সঙ্গে জয় গোপাল কাশীতে বসবাস করতেন। কাশী ছিল সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্রস্থল। কাশী থেকে তিনি সংস্কৃত বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভ করে পণ্ডিত নামে পরিচত হন। পাদরী কেরীর অধীনে জয়গোপাল চাকুরী নেন ১৮০৫ সালে। ৮ বছর এখানে তিনি চাকুরী করেন। তৎপর ১৮১৩ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে যোগদান করেন সংস্কৃত ভাষায় অধ্যাপক হিসেবে এবং এই পদে চাকুরী করেন ১৬ বছর অর্থাৎ ১৮২৯ সাল পর্যন্ত। দেশ বরেণ্য অনেক কৃতি সন্তান তার ছাত্র ছিলেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা ছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, তারাশঙ্কর, মদনমোহান, শ্রীচন্দ্র প্রমুখ। পাণ্ডিত্যের গুনে তিনি সে সময়কাল কলকাতা সুপ্রীম কোর্টের জজ পণ্ডিত (হিন্দু আইন বিশেষজ্ঞ) হতে পেরেছিলেন। পাদরী, কেরী, মার্শম্যান এর প্রচেষ্টায় বাংলা মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয় শ্রীরামপুরে। জয়গোপাল তর্কালঙ্কার কৃত্তিবাসের রামায়ন ও কাশীদাসের মহাভারত এই দুটি মহাকাব্য পরিবর্ধন ও পরিশোধন করে নতুন আঙ্গীকে প্রকাশ করেন শ্রীরামপুরের প্রেস থেকে। এতে পাদরী, কেরীরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। বর্তমানে বাংলা ভাষায় অনুদিত যে রামায়ন ও মহাভারত প্রচলিত আছে তা তারই সংশোধিত সংস্করণ।

মেধাশক্তির গুনে তিনি ফারসি ভাষা করায়ত্ব করতে পেরেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি সংকলন করেন ফারসি অভিধান নামে একখানা কোষগ্রন্থ। বঙ্গানুবাদ কাজেও তার দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। সেইসঙ্গে রচনা করে গেছেন অনেক কবিতা। বিম্বমঙ্গলকৃত হরিভক্তিমূলক কবিতা বঙ্গানুবাদ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন এবং ষড়ঋতু বর্ণনামূলক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কবিতা রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেন। এ খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও যশস্বী পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করেন ১৯৪৪ সালে কলকাতায়। তৎকালীন সময়ে বজরাপুর গ্রামে শিক্ষিতের পরিমান বেশী ছিল এবং অধিকাংশ পরিবরের লোকজন কলকাতায় বসবাস করতো বিধায় সে সময় এই গ্রামকে দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এক সময় মহেশপুর বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে বজরাপুর গ্রামে তার শিক্ষকের বসতভিটা দর্শন করে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত