
ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং কৃষকদের লাভজনক বিকল্প ফসলের চাষে উৎসাহ দিতে নাঙ্গলকোট উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী চাষ। কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বীজ ও সার সরকারি প্রণোদনা সহায়তায় নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে এবার উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুল যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি ভালো ফলনের আশায় স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইউসুফ।
পৌষের শেষ আর ফাগুনের আগমনী রোদে চিকচিক করছে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। চারদিকে যেন হলুদের গালিচা বিছানো। আগে যেসব জমি পতিত পড়ে থাকত, এখন সেগুলোই ভরে উঠেছে সম্ভাবনার ফসলে। তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইউসুফ জানান , উন্নত জাতের বীজ ও সার পাওয়ায় তারা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং অল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে এটি বেশ লাভজনক। বর্তমানে অধিকাংশ গাছে ফুল এসেছে এবং দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইউসুফ আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ আর সার পেয়ে এবার সূর্যমুখী লাগিয়েছি। আগে জানতাম না এই মাটিতে এত ভালো ফলন হবে। এখন পুরো মাঠ ফুলে ভরা। আশা করছি তেলের ভালো দাম পাবো এবং খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে। শুধু কৃষিতেই নয়, সূর্যমুখীর বাগানগুলো এখন বিনোদনেরও কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন বিকালে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন ছবি তুলতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তাই আমি আমাদের মাহিনী গ্রামের সব কৃষককে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সূর্যমূখী চাষে আগ্রহী করে তুলবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন সজমিনে দেখতে এসে জানান, সূর্যমুখী তেলের পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। ফলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি জানান, এ উপজেলার জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে হাঁস-মুরগির খাবার প্রস্তুত করা যায় এবং তেলের উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এতে থাকা লিনোলিক এসিড হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী। কৃষি বিভাগ উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে সূর্যমুখী চাষ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। নাঙ্গলকোট উপজেলায় সূর্যমুখীর ফলন এবার অত্যন্ত সন্তোষজনক হবে বলে তিনি আশা করেন। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ফসল সংগ্রহ ও তেল প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো সমস্যা না হয়। সব মিলিয়ে, নাঙ্গলকোট উপজেলায় সূর্যমুখীর এই সোনালি হাসি শুধু মাঠেই নয়, কৃষকের মুখেও ফুটে উঠছে।