
ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও লালমোহনের কৃতি সন্তান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় লালমোহনে দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশে ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ভোলা-৩ আসনে ৭ বারের নির্বাচিত বর্ষিয়ান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি। পাশাপাশি লালমোহনবাসীর পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা অনেক আনন্দিত আমাদের নেতা মেজর হাফিজ স্পিকার হয়েছেন। লালমোহন বাজারের ব্যবসায়ী ও কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, গণতন্ত্র পূন:উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি শহিদ হয়েছেন ভোলা জেলার মানুষ। দীর্ঘদিনের নিপীড়িত নির্যাতিত ভোলা জেলার মানুষ ফিরে পেল তাদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার। ভোলা-৩ আসনের বারবার নির্বাচিত এমপি মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় লালমোহনবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন বসে। আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর পরপরই ভেঙে দেওয়া হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় এবার সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতায় ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
উল্লেখ্য, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে সাতবারের সংসদ সদস্য। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।