ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিষখালী নদীর ভাঙনে দিশাহারা তীরবর্তী মানুষ

বিষখালী নদীর ভাঙনে দিশাহারা তীরবর্তী মানুষ

বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী হাজারো পরিবার। নদীর স্রোত যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। ফলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করা এবং ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‘নদী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে গতকাল শনিবার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিষখালী নদীসংলগ্ন জিনতলা এলাকায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা নদীর তীরে বসে নিজেদের ভাঙনের বেদনার কথা তুলে ধরেন এবং দখল-দূষণমুক্ত নদী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার, হেমায়েত হোসেন, বেলায়েত মিয়া, রফিকুল ইসলাম, শাহিন মিয়া, সোহরাব হোসেন, নুর আলম, ইদ্রিস তালুকদার, ইসমাইল হোসেন ও আ. কাদের মিয়াসহ অনেকেই জানান, বাপ-দাদার ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর তারা নিঃস্ব ও ভূমিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জোয়ারের সময় নদীর পাড় ভেঙে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীতে চলে যাচ্ছে।

তারা বলেন, বিষখালী নদীর তীরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন জোরদার এবং নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিষখালী নদী যেমন তাদের জীবিকার উৎস, তেমনি এই নদীই আবার তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, উপকূলীয় মানুষের বসবাস ও জীবিকা নদীকেন্দ্রিক। ভাঙাগড়ার বাস্তবতা জেনেও তাদের নদীর তীরেই বসবাস করতে হয়। প্রতি বছরই অনেক পরিবার জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় বনায়ন জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকারের একার উদ্যোগ নয়, স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত