
রোজার শেষ মুহূর্তে যশোরের ঈদ বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের বড় ঈদ বাজার হাজী মোহাম্মদ মহসিন (এইচএমএম) রোডে উপচে পড়া ভিড় ক্রেতাদের। এই সড়কটি দড়াটানা মোড় থেকে শুরু হয়ে বড় কাঁচা বাজার রোডে এবং কাপুড়িয়া পট্টি রোডে গিয়ে শেষ হয়েছে।
সকাল থেকে গভীর রাত অবধি সব শ্রেণি পেশার নারী পুরুষ তাদের পছন্দের পোশাক এবং পণ্য কিনতে ভিড় করছেন এই বাজারে। এখানে জামা, জুতা, মোজা, শিশুদের পোশাক, থ্রি পিস, টু পিস, ওয়ান পিস, ওড়না, টপস্, হিজাব, লেহেঙ্গা, শাড়ি, ম্যাক্সি, থান কাপড়, বোরকা, গেঞ্জি, প্যান্ট, শার্ট, টুপি, আতর, জায়নামাজ, ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রীসহ যাবতীয় পন্য পাওয়া যায়। কম মূল্য থেকে উচ্চ মূল্যের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এখানে। তাই নিম্ন বিত্ত থেকে নিম্ন মধ্য বিত্ত ও মধ্য বিত্তের ক্রেতারা এখানে কেনাকেটা করতে আসছেন। এই সড়কে সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য মেলাই গৃহিণীদের প্রথম পছন্দ মার্কেটটি। শিশু, কিশোর, তরুণ, তরুণী, পূর্ণ বয়স্ক, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা সব বয়সী মানুষের পোশাক মেলে এখানে।
এইচএমএম রোডের মাদানী স্টোরের বিক্রেতা কাজী আসিফ বিল্লাহ বলেন, তার দোকানে দেশি-বিদেশি আতর, টুপি এবং তসবি পাওয়া যায়। খুচরা এবং পাইকারি দু’ভাবেই বিক্রি করা হয় এসব পন্য। টুপি আতর বিপুল পরিমান বিক্রি হচ্ছে। সৌদি থেকে আমদানি করা আতর ১২০ টাকা ও দুবাই থেকে আমদানি করা রাশা আতর ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। নেপালি টুপি ১৫০ টাকা পিস, আফগানি টুপি ১৪০, সাদা চুমকি বসানো বাহারি ডিজাইনের টুপি ১৬০ টাকা, তসবি বিক্রি করছেন ১০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা পিস। দেশি জায়নামাজ ৪৬০ টাকা চায়না এম্বুশ জায়নামাজ ৬৭০ টাকা পিস দরে বিক্রি করছেন।
এই সড়কের আরেকজন বিক্রেতা মো: বাপ্পি জানালেন, তার দোকানে শিশুদের প্যান্ট, গেঞ্জি, শার্ট ও টপস্ বিক্রি হচ্ছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ছেলে শিশুদের প্যান্ট। দাম ২৫০ টাকা। তারা একদামে পোশাক বিক্রি করেন বলে জানালেন।
ফুটপাতে চৌকির ওপর শিশুদের প্যান্ট গেঞ্জি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানালেন, আলহামদুল্লিাহ , অনেক ভাল বেচাবিক্রি হচ্ছে। তিনি বেবি আইটেম বিক্রি করছেন। সব সময় বাসায় পরার জন্য ছেলে শিশুদের গেঞ্জি, প্যান্ট ও মেয়ে শিশুদের টপস্ বিক্রি করছেন। ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে এসব বিক্রি করছেন। পন্য ভেদে ৩০, ৫০, ৭০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে এসব পণ্য। সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করছেন বলে জানালেন তিনি।
যশোর আমিনিয়া মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র এসএম রসিন নামে এক ক্রেতা জানায়, সে এবার ঈদে পাঞ্জাবি, পায়জামা, গেঞ্জি, থ্রি কোয়ার্টার, জুতা কিনেছে। ঈদ এবার ভাল হবে বলে আশাবাদী সে।
বিগ বাজারের বিক্রেতা আলী হোসেন জানালেন, তাদের দোকানে থ্রি পিসের যথেষ্ট কালেকশন রয়েছে। তৈরি থ্রি পিস ৭৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। প্রিন্টেড থ্রি পিসের কাপড় বিক্রি হচ্ছে ২৫০, ৩৫০ ও ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। ওপরে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামের থ্রি পিস বিক্রি করছেন বলে জানালেন তিনি।