ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ হবে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান’

‘নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ হবে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদকে জনসাধারণের কাছে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, জেলা পরিষদের কাজ কী এটা অধিকাংশ মানুষই ঠিকমতো জানেন না। আমি এই প্রতিষ্ঠানকে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। এই প্রতিষ্ঠান হবে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান।

গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত রোববার তাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দায়িত্বভার গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মামুন মাহমুদ বলেন, জেলা পরিষদকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, অতীতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা দৃশ্যমান ছিল না। সেই জায়গা থেকেই তিনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে চান।

জেলা পরিষদকে আমি জনমানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই, বলেন তিনি। যাতে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মানুষ সরাসরি অনুভব করতে পারে এবং এর সুফল পায়।

মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময় কিছু এলাকা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। শুধু ফতুল্লা নয়, নারায়ণগঞ্জের আরও অনেক এলাকা রয়েছে যেগুলো নানা কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আমরা সেই জায়গাগুলো খুঁজে বের করব, বলেন তিনি।

তিনি জানান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমের উন্নয়নে জেলা পরিষদকে আরও সক্রিয় করা হবে। তার ভাষায়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা স্থানীয় অবকাঠামো- যেখানে প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে উন্নয়ন কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চান বলে জানান তিনি।

মামুন মাহমুদ তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল যেখানে শক্তির প্রভাব বেশি ছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছিল ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি, বলেন তিনি। সেই সময় বৈষম্যের রাজনীতি হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদ এই লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখবে এবং নারায়ণগঞ্জের মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পায় সে বিষয়ে কাজ করা হবে। নবনিযুক্ত প্রশাসক বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হলেও এখানকার মানুষের নানা সমস্যা রয়েছে। জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সামাজিক সেবার ঘাটতি এসব সমস্যা সমাধানে জেলা পরিষদকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জেলা পরিষদ কাজ করবে, বলেন তিনি।

তিনি জানান, জেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের নজরদারির মধ্যেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ন্যায়বিচার ও সততার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে, বলেন মামুন মাহমুদ। অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে জনকল্যাণমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক খাত রয়েছে যেগুলো এখনও পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি। বিশেষ করে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অবকাঠামোর কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের মাধ্যমে অবহেলিত খাতগুলোয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা করব।

তার মতে, জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়ন ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। উল্লেখ্য, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রেও যুক্ত। তিনি সোনারগাঁয়ের কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামুন মাহমুদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। ১৯৮১ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখিও হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কারণে জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। জেলার বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত