
বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় এবং এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউআিইডিপি)-এর আওতায় শরীয়তপুর পৌরসভায় দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোম ও গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা (সিডিপি), ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (সিআইপি), পৌরসভা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (পিডিপি) এবং ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান (সিআরএপি) প্রণয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর পৌরসভার প্রশাসক ওয়াহিদ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের নগর পরিকল্পনাবিদ আব্দুর রকিব খান।
শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীর সঞ্চালনায় কর্মশালায় পৌরসভার টাউন-লেভেল কোঅর্ডিনেশন কমিটির সদস্য, প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শক দল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ তামান্না সালাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এমটিএস মাহমুদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মাহমুদা খাতুন এবং ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার সানমি আরফিন অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পৌরসভাগুলোকে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পৌরসভার সঙ্গে সংযুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৮১টি পৌরসভা ও ৬টি সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, যা ৩৬টি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২.১ কোটি মানুষ উপকৃত হবে, যার একটি বড় অংশ নারী।
কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, ড্রেন নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ডাম্পিং স্টেশন, সুপারমার্কেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণসহ আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
কর্মশালাটি অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।