
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নেট ফ্যাক্টরিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র নেট তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে কিছু দুষ্টু লোক চুরি করে কারেন্ট জাল তৈরি করছে। কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসন হাজার কেজি জাল উদ্ধার করে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা এ জাল থেকে রক্ষা পাবো। গত ১০-১৫ বছর ধরে এই জাল খুব দ্রুত উৎপাদন হয়েছে। এর আগে এতো ছিল না। আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি, এটি সমাধান হবে।
গতকাল মঙ্গলবার চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন তিন নদীর মোহনায় জাতীয় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আমিন উর রশিদ বলেন, আশির দশকের আগে দেশে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হতো তার ২০ শতকরা শুধু ছিল ইলিশ। পরে জাটকা নিধনসহ নানা কারণে দুই লাখ টনে আসে। তারপর যখন জাটকা নিধন রোধসহ নানাভাবে গবেষণা শুরু হয়, তখন পাঁচ লাখ টন ইলিশ উৎপাদন হয়। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি আরও সচেতন হই, তাহলে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। নিষেধাজ্ঞা সময়ে জেলেদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে সরকার। আগে শুধু চাল দেওয়া হতো, এখন চাল, ডাল অনেক কিছু দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জাটকা ধরা বন্ধ করতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নদী ও সাগরে নিষেধাজ্ঞা সময়ে জেলেদের মাছ ধরতে দেব না। ওই সময়ে তারা যেন নতুন কিছু কাজ করতে পারে সেই বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। কারণ বেশি ভাগ জেলের নদী ও সাগর পাড়ে চর এলাকায় বাড়ি বা বসবাস করে। এ নিষেধাজ্ঞা সময়ে তারা যেন কিছু কর্ম করতে পারে সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নদী দূষণ এই দেশে অনেক ক্ষতি করছে। যে কোনো অবস্থাতে নদীর দূষণ প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর।
এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম সলিম উল্যা সেলিম, নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।