
কুষ্টিয়ায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুল আওয়াল’র যাবজ্জীন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল আওয়াল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ন পুর কুন্ডুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করীম বিশ্বাসের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারী সকাল ৮টার দিকে ৩ সন্তানের জননী স্ত্রী শাহানা খাতুন ওরফে জাহানারা খাতুন (৩০)র সঙ্গে আসামীর পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। নিহত শাহানা তার স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকাকে গালি দিয়ে এই অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করে। এতে নিহতের স্বামী আসামী আব্দুল আওয়াল তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হরিনায়নপুর কুন্ডুপাড়ায় প্রকাশ্যে বাড়ির অন্যান্যদের সম্মুখে ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী শাহানা খাতুনের দেহের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে স্ত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার সময় আসামীর মা ঠেকাতে গেলে আসামী তার মা’কেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এসময় শোরচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আসামীকে আটক করে নিকটস্থ ইবি থানা পুলিশে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে ইবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। এবং আসামী আব্দুল আওয়ালকে থানায় নিয়ে যান। এঘটনায় নিহতের বড় ভাই ঘটনার দিনেই সদর উপজেলার উত্তর মাগুরা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো শফি উদ্দিন বাদি হয়ে আব্দুল আওয়ালকে একমাত্র এজাহার নামীয় আসামী করে ইবি থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ইবি থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলী মিয়া ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলার একমাত্র আসামী আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘ইবি থানার এই স্ত্রী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামী আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ দীর্ঘদিন স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা প্রধানের এ আদেশ দেন।