
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নে পাঁচকুড়ি খালের ওপর জরাজীর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো এখন এলাকাবাসীর কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার কাকড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এই নড়বড়ে সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে অন্তত ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে উত্তর কাকড়াবুনিয়া, দক্ষিণ কাকড়াবুনিয়া, সোনাপুরা ও কেওয়াবুনিয়াসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করে। এছাড়া এলাকার অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সাঁকোটি প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম বিপত্তি। যেকোনো কৃষিপণ্য মাথায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার করে স্থানীয় বাজারে নিতে হয়। ফলে যেকোন সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে দরিদ্র কৃষকরা।
স্থানীয়রা আক্ষেপ করে জানান, নড়বড়ে এই সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকালে পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় সাঁকোটি পার হওয়া আরও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানালেও এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সাঁকোটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যেকোনো সময় এটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাকড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাদশা মাস্টার বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা সবসময় আতঙ্কে থাকে। আবার ছুটির সময় আমরা শিক্ষকরাও থাকি দুশ্চিন্তায়। এখানে একটি ব্রিজ হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কামুক্ত হতাম, সেইসঙ্গে আমাদের এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র পাল্টে যেত। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া বলেন, এই সাঁকোটি জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, জনগণের ভোগান্তি কমাতে এখানে ব্রিজের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। প্রয়োজনে আবারও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব। উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এই সাঁকোর স্কিম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। বাজেট পাস হলে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।