
আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত কার্যক্রম শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙা আমের। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টায় রংপুরের মিঠাপুকুর এর পদাগঞ্জে বাগানে হাঁড়িভাঙা আম ছিড়ে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম, কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একেএম রাকিবুল হাসান ফেরদৌসসহ স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পরে তিনি পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাঁড়িভাঙা আমি চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানী পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করেন এবং কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, জেলা প্রশাসকের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাঁড়িভাঙা আমের রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ, ওয়াস ব্লক তৈরি, ব্যাংকের শাখা স্থাপন, ম্যাংগো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে মণ বিক্রি হচ্ছে আমের। এবার শিলা বৃষ্টিতে হাঁড়িভাঙা ঝরে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে ৩০ ভাগ। তাই দাম বৃদ্ধি না হলে লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার যেহেতু আমের ফলন একটুখানি কম হয়েছে। তবে আকার বড় হয়েছে। সে কারণে এবার ন্যায্য দাম পাবে কৃষকরা। শুরুর দিকে সামান্য দাম কম হলেও প্রতিদিনই আমের দাম বাড়বে বলেও আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
সরকারের বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আজ থেকে পাড়া শুরু হয়েছে রংপুরের সুস্বাদু ও রসালো হাঁড়িভাঙা আাম। বাজারে সর্বত্র এখন পাওয়া যাবে জিআই পণ্য স্বীকৃত এই আম। আর এই আমকে কেন্দ্র করে এবারে রংপুর অঞ্চলে ৩০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।