
চায়ের দেশ সফরে আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলের চারিদিকে সাজ সাজ রব। শ্রীমঙ্গলবাসী যেমন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে, ঠিক তেমনি আশায় বুক বেধে আছেন দীর্ঘ দিনের অমীমাংশিত দাবীসমূহ উত্থাপন হবে এবং তারেক রহমানের হাত ধরে সকল দাবীসমূহের ন্যায্য বাস্তবায়ন হবে।
ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসন শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতির স্থানগুলো পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনী নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সরকারের বিভিন্ন বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমনসূচীতে রয়েছে, ১৭ জুন সকাল ৯.৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট রওয়ানা, ১০.১৫ মিনিটে সড়ক পথে যাত্রা করে দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় যোগদান।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গলের অবহেলিত এই জনপদে বাস্তবায়নযোগ্য অনেক দাবীদাওয়া থেকে বঞ্চিত শ্রীমঙ্গলবাসী। অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল ঘিরে বিগত কোন সরকারেরই ছিল না যেমন কোন পরিকল্পনা, ঠিক তেমনি বরাদ্দকৃত এবং অনুমোদিত অনেক প্রকল্পই চরম অনিহা এবং অবহেলার কারণে মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ফলে কাঙ্খিত এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত প্রায় প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অবহেলিত জনপদে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে। ঠিক সেই সরকারের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী দেশের প্রধান ব্যক্তির আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলার মানুষের মনে আশার আলো দানা বেঁধেছে।
দাবীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, চায়ের দেশকে পর্যটন নগরী ঘোষণা, দীর্ঘ দিনের জটিলতা পৌরসভার সীমানা বর্ধিতকরণ বিষয়ে ভূয়া মামলা বাতিল, ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর, শিশু উদ্যানকে দখলমুক্ত করে বাস্তবায়ন, প্রস্তাবিত উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি বাস্তবায়ন, মডেল মসজিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন, দ্রুত বাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন, প্রস্তাবিত বাস-ট্রাক টার্মিনাল বাস্তবায়ন, অবসর প্রকল্প বাস্তবায়ন, একমাত্র খেলার মাঠ রেলওয়ে মাঠকে দখলমুক্ত করণ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও উন্মুক্ত বনভূমিকে রক্ষা করা, সাগর দিঘীেেক সংরক্ষণ, বিপন্ন বাইক্কাবিল ও হাইল হাওরকে রক্ষা করা, সিলিকন বালির লোপাট বন্ধ করাসহ এলাকার পর্যটন স্পটগুলো সংরক্ষণ ও দর্শনার্থী ভ্রমন উপযোগী করা ইত্যাদি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রীমঙ্গল সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। শ্রীমঙ্গল শহরস্থ ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিশাল জনসভাকে সাফল্যমন্ডিত করতে মাঠসহ আশপাশের এলাকাকে দৃষ্টি নন্দন করতে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মাটি ভরাটসহ পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ চলছে পূর্ণ উদ্যোমে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন। এ উপলক্ষে গোটা শহরের, রাস্তার পাশে থাকা পোস্টার-লিফলেট সরানো হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, সবার আগে বাংলাদেশ লোগো সম্বলিত দৃষ্টি নন্দন বাসটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ করবেন এবং সেই বাসেই তিনি সভাস্থলে উপস্থিত হবেন বলে আমরা প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে মাঠসহ পুরো শ্রীমঙ্গলকে ঘিরে আমাদের কর্মতৎপরতা বা প্রস্তুতী চলছে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতী গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ কার্যক্রমের (তৃতীয় পর্যায়) উদ্বোধন উপলক্ষে আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুইলপুর মৌজায় প্রাথমিকভাবে ১৮৪ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল উপজেলা সফরে আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গলে আগমন উপলক্ষে আমরা আনন্দিত। শত ব্যস্ততার মাঝেও শ্রীমঙ্গলের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আমাদের কর্মসূচি দিয়েছেন, এজন্য আমি ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং সমগ্র শ্রীমঙ্গলেবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রধানমন্ত্রীকে।