ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ

দিনাজপুরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ

চলতি আমন মৌসুমে খরিপ-১, এ-২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি বিভাগ। এই জেলায় এ পর্যন্ত আগাম জাতের ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভরা মৌসুমে এখন জেলার প্রতিটি উপজেলায় কৃষকরা আমন ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আফজাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জেলায় চলতি আমন চাষ মৌসুমে খরিপ-১, এ ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২ লাখ ২৬ হজার ১৫০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২৫ হাজার ৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের জন্য রয়েছে ৯ হাজার ৫০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন চাল। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে রোপা আমন চাষে এবার কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গত ১৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। রোপা আমন চাষের জন্য উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫ হাজার ৪০০ হেক্টর, বিরল উপজেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৪০০ হেক্টর, কাহারোল উপজেলায় ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, খানসামা উপজেলায় ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, চিরিরবন্দর উপজেলায় ২৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, পার্বতীপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ী উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, বিরামপুর উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জ উপজেলায় ২৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর, হাকিমপুর উপজেলায় ১২ হাজার ১৫০ সেক্টর ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হবে। কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষ সফল করতে ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

গত মৌসুমে জেলায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের সূত্র অনুযায়ী জেলায় এবার বোরো চাল উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল। জেলায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কৃষকরা এখন তাদের জমিতে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলতি জুন থেকেই জেলায় আগাম জাতের আমন ধান রোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে কষকরা।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ জন্য বিএডিসি বিভাগ পর্যাপ্ত পরিমাণ কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী রাসানিয়াক সার তাদের গুদামে আগাম মজুত রেখেছে। বিএডিসি তালিকাভুক্ত জেলায় ১২৬ জন রাসায়নিক সারের ডিলাররা এরইমধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া, ডিওপি, টিএসপি এবং এমওপি সার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারের অধীনে ৩ জন করে সাব ডিলার রয়েছে। কৃষকদের আমন চাষে রাসায়নিক সারের কোনো ধরনের ঘাটতি না হয়, এজন্য বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত