
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত জামির বিশ্বাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামির বিশ্বাস। তিনি পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি-বাংলাট গ্রাম এবং পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। গুরুতর আহত জামির বিশ্বাসকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জামির বিশ্বাসের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। হামলার আতঙ্কে অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের জেরে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে আহত একজন ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরবর্তীতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।