
দেশের অন্যতম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সড়কটি ভারি যানবাহন চলাচল, বৃষ্টি ও সংস্কারকাজ না হওয়ায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পরিণত হয়েছে। চলমান বর্ষায় সঠিকভাবে মেরামতকাজ না হলে সড়কটি আরও বেহাল অবস্থায় পরিণত হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গর্তগুলো মেরামত করা হোক। সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তবে তাদেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ৬৬ কিলোমিটার। এটির সড়ক নির্মাণ করেছে সওজ সড়ক বিভাগ, চাঁদপুর। গত প্রায় ৬ বছরে ভাগ করে বিভিন্ন অংশে সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত সৃষ্টি হয়। তখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সংস্কার না করায় গর্তগুলো আরও বড় হয়। স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অস্থায়ীভাবে গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করলেও বর্তমানে ওই স্থানগুলোতে আরও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গর্তের চারপাশে কার্পেটিংয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বাঁধের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় বৃষ্টির পানির চাপে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ১০ থেকে ১২ স্থানে বড় ধরনের গর্ত এবং ৪০ থেকে ৫০ স্থানে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর গর্তগুলো মেরামত করতে গিয়ে বালুর বস্তার ওপর ঢালাই দিয়েছে সড়ক বিভাগ। ফলে বস্তাগুলো পচে গিয়ে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।
সড়কের এখলাছপুর এলাকার বাসিন্দা ওবায়েদ উল্যাহ বলেন, গত বছর গর্ত তৈরি হওয়ার পর বস্তা ও মাটি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বস্তার ওপর ঢালাই দিয়ে লাভ হয়নি। এখন আবার মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় যানবাহন চলাচলে বেশি ঝুঁকি থাকে।
সানকিরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে গর্ত তৈরি হলেও পরবর্তীতে ভারি যানবাহন চলাচলে বেশি ক্ষতি হয়। নানা কাজে ভেকু চলাচল করে। এছাড়াও বড় বড় মালবাহী ট্রাক চলাচলে সড়ক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
মেঘনা-ধনাগোদা পওর বিভাগ, চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, সেচ প্রকল্পের সড়কে বৃষ্টি ও ভারি যানবাহন চলাচলে গর্ত তৈরি হয়েছে। মেরামতকাজ শুরু হয়েছে এবং সড়ক বিভাগসহ সমন্বিতভাবে কাজ করলে এটি টেকসই হবে। আমরা সড়ক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।
সওজ সড়ক বিভাগ, চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, এই সড়কের বিষয়ে আমরা অবগত। সংস্কারকাজ শুরু করেছি। সড়কটির একটি অংশ যে ঠিকাদারি কোম্পানি নির্মাণ করেছে, তাদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। তারপরও সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা চলছে।