ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যমুনা গিলছে চরের জনপদ

যমুনা গিলছে চরের জনপদ

পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বহু জায়গাজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে যমুনা নদীর পানি সামান্য কমেছিল এবং শনিবার সকাল থেকে আবারো পানি বাড়ছে।

সেইসঙ্গে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ি, চরগিরিশ, চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের চর সলিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা, কাওয়াকোলা চর ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙন থামছেই না। এ ভয়াবহ ভাঙনে ইতোমধ্যেই ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও জায়গাজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং অনেক পরিবার ভাঙনের মুখ থেকে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকায় ভাঙন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চৌহালী ও কাজিপুরের চরাঞ্চলে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ভাঙন রোধে কাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গত মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাসময়ে ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও যখন ভাঙন শুরু হয় তখনই ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নেয়। এ ধরনের জরুরি ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। প্রতিবছরই এ ভাঙন চলতে থাকে এবং বহু পরিবার এ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলে যমুনায় ক্রমশ পানি বাড়ছে। এতে স্রোত ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের কারণে এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভাঙনের সৃষ্টি হলেও এখন বন্যার আশংকা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত