
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিরোধপূর্ণ একটি সড়ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ১০ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের উমরমজিদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের একটি রেকর্ডভুক্ত বেদখল সড়ক উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার ওই সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে গেলে জয়নাল মিয়া ও তার লোকজন সেখানে যান। এ সময় আব্দুর সাত্তারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত কাজে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে জয়নাল মিয়ার ছেলে লিমন ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জিন্নাত আলীর ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় জিন্নাত আলী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে নয়ন আলী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিন্নাত আলীর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহত জয়নাল মিয়া ও নয়ন আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টায় নয়ন আলীও মারা যান। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের পৃথক পৃথক মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর এলাকায় প্রতিশোধমূলক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।