
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২২ কেজি ওজনের ‘দাতিনা ভোল’ মাছ। বাগেরহাটের আড়তে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে মাছটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট শহরের কেবি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলাদারের আড়তে প্রতি কেজি ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা দরে বিরল প্রজাতির মাছটি কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী হারুন মীর। হারুন মীর বলেন, “এই মাছের মণ প্রায় ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছি। “এখন বরফ দিয়ে মাছটি বড় মোকামে নেওয়া হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করছি, মাছটি বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।” এর আগে গত মঙ্গলবার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জেলে ইলিয়াছ হোসেনের মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।
ইলিয়াছ হোসেন বলেন, “সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ তেমন ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার আগে শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলি। রাতে জাল টানার সময় দাতিনা ভোল মাছটি পাই। এত বড় ও দামি মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।” উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ফাঁসের জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে যায়। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের দাতিনা ভোল ধরা পড়েছে।” গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিরল এই মাছটি দেখতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক মানুষ। মাছটির আকার ও দাম নিয়ে তাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এত বড় দাতিনা ভোল মাছ আগে কখনো সরাসরি দেখিনি। মাছটির দামও যে এত বেশি, সেটাও জানা ছিল না। খবর পেয়ে কৌতূহল নিয়ে দেখতে এসেছি। মাছটি এক নজর দেখতে এখানে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন।” আরেক দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “২২ কেজি ওজনের মাছ, আবার দাম সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি- বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো। এমন বিরল মাছ সাধারণত চোখে দেখা যায় না। তাই খবর পেয়ে দেখতে এসেছি।” স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল ও মূল্যবান মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। আর বড় আকারের এমন মাছ ধরা পড়লে তা জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, দাতিনা ভোল মাছের পটকা বা বায়ুথলির আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর পটকা উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়।
এ মাছের পটকা চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সার্জিকেল সুতা, ওষুধ প্রস্তুত এবং প্রসাধনী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, জানান এই কর্মকর্তা।