ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে ৫০০ পাখির মৃত্যু

বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে ৫০০ পাখির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাঠে ফসলি জমিতে পোকামাকড় দমনে বিষ প্রয়োগের পর বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ৫০০ পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার মদনা মাঠের একটি চাষযোগ্য জমিতে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের উদ্দেশ্যে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। পরে ওই জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছড়িয়ে রাখা হলে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি তা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে প্রায় ৫০০ পাখি মারা যায়। মাঠে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক পাখির মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ওইদিন রাত সারে ৮টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি সম্পর্কে খোজখবর নেন।

পরে জমির মালিক রাজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, মাঠে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের জন্য তার পিতা আতিয়ার ওই জমিতে বিষমিশ্রিত কিছু ধান ছিটিয়ে রেখেছিলেন।

ওই বিষমিশ্রিত ধান খেয়েই বিপুলসংখ্যক পাখির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিককে ৫০০ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের সচেতন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষার জন্য জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম ও মাত্রা অনুসরণ করতে হবে।

কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিংবা বিষমিশ্রিত খাবার খোলা অবস্থায় জমিতে ফেলে রাখার কারণে পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। তাই ফসল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও কৃষকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষমিশ্রিত খাবার জমিতে ছড়িয়ে রাখলে শুধু বন্য পাখিই নয়, গৃহপালিত পশুপাখি এবং অসাবধানতার কারণে মানুষও ক্ষতির শিকার হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনঃরায় না ঘটে, সে জন্য কৃষক ও জমির মালিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রচলিত আইন রয়েছে।

ঘটনার ধরন ও নিহত পাখির প্রজাতি অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা বা নিধনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তফশিলভুক্ত পাখি হত্যা বা নিধন প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষিজমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বিষমিশ্রিত ধান বা অন্য কোনো খাবার জমিতে খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া হলে তা পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। মদনা মাঠে বিপুলসংখ্যক দেশীয় পাখির মৃত্যুর ঘটনাটি কৃষিজমিতে কীটনাশকের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত