ঢাকা শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ফিরছে সচ্ছলতা

সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ মৌসুমে বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এরমধ্যেই বিশেষ করে এ চাষে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন পটোলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে বেশি চাষ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া যমুনা নদীর চরাঞ্চলেও এ চাষাবাদ করা হয়েছে। এ গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে বেগুন, ঢেঁড়স, পটোল, পেঁপে, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ডাটা, সিম, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ও মুলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ৩ মাস আগে এসব দেশি সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। এছাড়া এ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। শস্যভাণ্ডার খ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ সবজি চাষাবাদে লাভবান বেশি হয়েছে। এসব সবজির হাট-বাজারে দামও ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, দফায় দফায় বর্ষণে অনেক সবজির বাগান বিনষ্ট হয়েছে। এ গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদে খরচ কম ও লাভ বেশি। এতে এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভজনক চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলে পটোল ও বিভিন্ন সবজি বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়ে, গ্রামঞ্চলের সরকারি বেসরকারি রাস্তাঘাটের আঙিনায় অনেক সবজির চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এ চাষাবাদে গ্রামঞ্চলের গৃহবধূরাই বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রাজ্জাক (৫০) প্রায় ২৮ শতক জমি লিজ নেন এবং এ জমিতে গ্রীষ্মকালীন পটোলসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেছেন। এ চাষাবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। প্রায় ২ মাস ধরে এ জমি থেকে বিভিন্ন সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং প্রতি কেজি পটোল খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ সবজি বাগানের ঝিঙ্গা ও বেগুনও বিক্রি করছেন। এরমধ্যেই তিনি প্রায় ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন এবং আরো লাখ টাকার সবজি বিক্রি হবে। এ উপজেলার মুনসুমি, খোকশাবাড়ি, ধিতপুর, রঘুরগাতী রাজাপুর, খাগাসহ বিভিন্ন গ্রামঞ্চলে এ চাষাবাদ বাড়ছে। খরচ কম লাভ বেশি এ চাষাবাদে বিশেষ করে ঝুকে পড়েছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা। এরমধ্যেই অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। এ চাষাবাদে তাদের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকেরা বেশি লাভবান হয়েছে। এসব সবজির বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত