ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সফলতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সফলতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ

স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর সফলতায় রংপুরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখীর উপস্থিতির হার উৎসাহ ব্যাঞ্জক ভাবে শতভাগ বেড়েছে, সেই সাথে কমেছে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের হার। এই কর্মসূচীর সফলতায় এর সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘ মেয়াদী সময়ে অব্যাহত রাখার দাবী তুলেছেন সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা। এই আর্কষনীয় খাদ্য বান্ধব খাদ্য পুষ্টি কর্মসূচীর আওতায় প্রতিদিন জেলার সুবিধাভোগী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুধ, কলা, বন রুটি এবং সিদ্ধ ডিম দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে খাদ্য পুষ্টির অনাবিল আর্কষনীয় টানে নিয়মিত দলবেঁধে বিদ্যালয়ে আসছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। কখনও কখনও তাদের উপস্থিতি শত ভাগে গিয়ে দাঁড়ায়। এই কর্মসূচীর সাফল্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা রোধেও এটি বিশেষ উৎসাহ ব্যাঞ্জক সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।

জানা গেছে, এই কর্মসূচীর আওতায় রংপুরের ৮ উপজেলার মধ্যে কেবল মাত্র সদর উপজেলার মোট ২২৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩ হাজার ৬শ’ ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদ্যালয় চলাকালীন নিয়মিত সিদ্ধ ডিম, দুধ, বনরুটি ও কলা বিতরন করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহায়তা করছে বেসরকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা- ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। এই কর্মসূচীর সফলতা দেখার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মুর্শিদা শারমিন এবছর জুন মাস নাগাদ রংপুরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচী সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং স্কুল ফিডিংয়ের সুফলে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় মুখি প্রবণতায় শতভাগ উপস্থিতি দেখে তিনি বিমুগ্ধ সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় একই বিভাগের উপ সচিব সরওয়ার কামাল ও সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ, ইএসডিওর সদর উপজেলার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা ও রংপুরের বিশেষ টিমের সদস্যরা অন্যান্যের মধ্যে এসব পরিদর্শন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। রংপুর নগরীর উপকন্ঠে সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমাশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর সরেজমিন পরির্দশনে কালে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শতভাগ। খাওয়ার র্নিধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা সুশৃংখল সারিবদ্ধ ভাবে তাদের ঐ দিনের বরাদ্দ বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম সংগ্রহ করছে। এ সময়র তৃতয়ি শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী ইয়াছি আক্তার, অম্পিতা, আবু বকর, পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নিশিথা আক্তার জানায় তাদের স্কুলে প্রতিদিন এসব খাবার দেয়ায় সবাই খুশি। বৃষ্টি আর রোদ ভেঙ্গে তারা স্কুলে আসে। স্কুলেই খাবার পেয়ে ক্ষুধা নিবারন হওয়ায় কেউ আর বাড়ি যায়না বা ক্লাশ ফাঁকি দেয়না। অভিভাবক নয়ন তারা, বেলি বেগম, ফউজিয়া বেগম জানালো, এখন আর তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার কথা বলতে হয়না। বাচ্চারা নিজেরাই স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের অর্কষণে উৎসাহ নিয়ে নিয়মিত স্কুলে যায়। বিদ্যালয়ের টিফিন ম্যানেজার সহকারী শিক্ষক আব্দুস সবুর জানালেন, এবছর স্কুল ফিডিং কর্মসূচী চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শতভাগ বেড়েছে। আমরা প্রতিদিন ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর টিফিন হিসেব করলেও যেদিন শতভাগ উপস্থিত হয় সেদিন ঘাটতি পড়ে যায়। যা তাদের পরে পুরন করে দেয়া হয়। আামাশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মল্লিকা রায় জানান, আামাশু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শির্ক্ষাথী ৪৬২ জন।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচী চালু হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯৫ শতাংশ থেকে প্রায় শতভাগ বেড়েছে। যা পুর্বে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি ছিল। এই বিদ্যালয়ে ১ জন পুরুষ এবং ১০ জন নারীসহ মোট ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। গতবছর ডিসেম্বও মাসে এই কর্মসূচী চালু হওয়ার পর সবার মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রয়োজনে কোন শির্ক্ষাথী স্কুলে অনুপস্থিত থাকে না। প্রধান শিক্ষিকা এই কর্মসূচীকে শিক্ষা বান্ধব যুগান্তকারী উল্ল্যেখ করে বলেন, এতে শিক্ষার্থীদেও পুষ্টিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্য তালিকায় একঘেয়েমী রুটির পরিবর্তে বিস্কুট এবং মওসুমী ফল সংযোগ করলে আরও ভালো হতো।

রংপুর সদর উপজেলার জাফরগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচী পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ইতিবাচক নানা কথা। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা আক্তার জানায়, তারা এখন এখন নিয়মিত স্কুলে আসে এবং স্কুল শুরু হওয়ার আগেই পৌঁছায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত