ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নান্দাইলের চকমতি মাদরাসায়

সাত বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য বিজ্ঞান বিভাগ

সাত বছর ধরে শিক্ষার্থীশূন্য বিজ্ঞান বিভাগ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চকমতি ডিএস ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় গত সাত বছর ধরে আলিম পর্যায়ের বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই| নেই কার্যকর কোনো ল্যাবরেটরি, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম কিংবা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও| অথচ কাগজে-কলমে এ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন দুইজন বিজ্ঞান শিক্ষক| ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত চকমতি ডিএস ফাজিল মাদরাসায় বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী ৫৫৬ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন| মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে সুপারিশ পেয়ে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মোছা. মাহফুজা মুর্শেদা ও শাহনাজ আক্তার রূপা| যোগদানের পর তারা জানতে পারেন, আলিম বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী নেই|

এরপর প্রায় সাত বছর পার হলেও আলিম পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি| সরেজমিন মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে ওই দুই শিক্ষক অবস্থান করছেন| বিজ্ঞান বিভাগের কক্ষ ও ল্যাবরেটরি দেখতে চাইলে অধ্যক্ষের কক্ষের পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ দেখানো হয়| কক্ষটির দরজার ওপরে দেয়ালে 'বিজ্ঞান বিভাগ' লেখা থাকলেও ভেতরে নেই কোনো বেঞ্চ, টেবিল-চেয়ার কিংবা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম| কক্ষটি স্যাঁতসেঁতে, জানালা ভাঙা এবং ভেতর থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল| ছাদেও জন্মেছে আগাছা| ল্যাবরেটরিটি সর্বশেষ কবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা মাদরাসার অধ্যক্ষও বলতে পারেননি| এ বিষয়ে বিজ্ঞান শিক্ষক মাহফুজা মুর্শেদা ও শাহনাজ আক্তার রূপার কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, শুরু থেকেই আমরা অনেক চেষ্টা করেও বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী পাচ্ছি না|

এতে আমাদের কী করার আছে? মাদরাসার দাখিল পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও তাদের আলিম পর্যায়ের বিজ্ঞান বিভাগে ধরে রাখা যাচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তারা|

এ বিষয়ে তারা বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়| তবে শিক্ষক দুজন দাবি করেন, শিক্ষার্থী না থাকলেও তাঁরা সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান ক্লাস নেন| মাদরাসার অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম বলেন, অনেক চেষ্টা করেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না| তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে| তাছাড়া তাদের দিয়ে অন্য ক্লাসও নেওয়া হচ্ছে| নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুর ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন| বিষয়টি এতদিন কীভাবে চলেছে এবং আগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি| মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) লুৎফুন নাহার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না| খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে|

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত