ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

দেশের অন্যতম পর্যটন শহর দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন ঘটে উপজেলা শহরটিতে। শহরটিতে প্রবেশের প্রাক্কালেই এখানকার পরিবেশ সম্পর্কে বিরূপ ধারণা নিয়েই তাদের আগমন ঘটে। কারণ, শহরটির প্রবেশ মুখে রয়েছে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়।

পঁচা-ময়লার দুর্গন্ধে পথচারীসহ পরিবহন যাত্রীদের এ পথে যাতায়াতে নাকাল অবস্থা। ময়লার দুর্গন্ধে শিশুরা এ পথে তাদের নিয়ে যাতায়াত না করতে পিতা-মাতার কাছে আপত্তি করেন। এমন সঙ্গীন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। পৌরসভা হিসেবে পথচলার ৩ যুগ এবং প্রথম শ্রেণির পৌরসভার ২ যুগ অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠা করা যায়নি ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্টেশন।

কখনও ময়লার দুর্গন্ধ কখনও আগুনের ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে স্থানীয় বাসিন্দারা চুলকানি-এলার্জি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাসের বাণী শোনায়। জনবসতিহীন এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন করার। এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা এবং পর্যটন স্থরে প্রথম সারির পৌরসভার ময়লা আবর্জনার ভাগাড় জনবসতিপূর্ণ শহরের প্রবেশদ্বারে- এমনটা ভেবে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে চরফ্যাশন পৌরসভার প্রবেশ পথেই ময়লার ভাগাড়। ভাগাড়টির পাশেই দেশের অত্যাধুনিক যাত্রী বাস টার্মিনাল। বাস থেকে নামতে-উঠতেই পঁচা ময়লার উৎকট দুর্গন্ধে অনেক যাত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১৯৯০ সালের চরফ্যাশন পৌরসভার আতুরঘর থেকে ২০০৩ এটি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। এরপর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ বেখেয়ালিভাবে মহাসড়কের পাশকে ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। পৌর বাসিন্দাসহ সচেতন মহলের তাগিদের পরও পৌর মেয়রসহ প্রশাসকদের সম্মিত ফিরে আসেনি।

বাসিন্দাদের ক্ষোভ-প্রতিবাদেও তৈরি করা হয়নি ডাম্পিং স্টেশন।

শিক্ষক নুরুল কবির প্রতিদিন তার শিশুশ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে নিয়ে এ পথে বাসে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, তার বাচ্চা প্রতিদিন ময়লার ভাগাড়ের কাছে আসার সাথে সাথেই বলে বাবা নাক ধর, গন্ধ। পরে প্রশ্ন করে বাবা এখানে এত গন্ধ কেন? শিক্ষক নুরুল কবির আক্ষেপ করে বলেন, ময়লায় রাস্তার অবস্থা বেগতিক। বাচ্চার আবদার থাকলেও তাকে নিয়ে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াতেরও সুযোগ নেই।

বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা আল এমরান নোমানের সাথে অনেকেই চরফ্যাশন বেড়াতে আসেন। নোমান বলেন, তারা চরফ্যাশনের পর্যটনকেন্দ্র দেখে অভিভূত হন, প্রশংসা করেন। কিন্ত যখন তারা পৌরসভার ময়লার ভাগাড় নিয়ে কথা বলেন তখন নিজের কাছে খুবই খারাপ অবস্থা মনে হয় । পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, আমরা ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে আমরা ডাম্পিং স্টেশন করতে পারব। আশা করি সরকার এ বিষয়ে দ্রুত নজর দিবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত