
সিরাজগঞ্জে কৃষি অফিস ভবনের ছাদ ফল বাগান এখন কৃষি প্রশিক্ষণ বাগানে পরিণত হয়েছে। এ বাগানে বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ রয়েছে। কৃষি প্রশিক্ষণের এ ফল বাগান কাজে লাগে। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা এ বাগান তৈরিতে জ্ঞান অর্জন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের দোতলা ছাদে প্রায় ৫ বছর আগে এ কৃষি ছাদ বাগান তৈরি করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অর্থায়নে এ বাগান তৈরি করা হয়। এ ছাদ বাগানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ। এরমধ্যে পেয়ারা, আমড়া, বারোমাসি আম, জামবুরা, কর্মচা, মালটা, ডালিম ও আপেল উল্লেখযোগ্য এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ বাগান পরিচর্যা করছেন যথানিয়মে। এ উপজেলার বিভিন্ন কৃষি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষের দিন এ ছাদ বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এ বাগানে তাদের ফলবাগান তৈরিতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে। এ বাগান এখন প্রশিক্ষণ বাগানে পরিণত হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক গ্রামঞ্চলে বিভিন্ন জাতের ফল বাগান তৈরি করেছে। কৃষকেরা এ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন জাতের ফলের চারা সংগ্রহ করে বাগানে রোপণ করছে। এ চারা রোপণের কয়েক মাস পর থেকেই ফল উৎপাদন শুরু হয়। এ বাগানে বেশ কয়েক বছর ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ এসব ফল বাগান তৈরিতে পরামর্শ ও সহযোগিতাও করছেন। এ উপজেলার চরাঞ্চল ও গ্রামঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে নানা জাতের ফল বাগান চাষ করা হয়েছে। কম খরচে লাভ বেশি এ বাগান চাষে ঝুকে পড়েছে কৃষকেরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এ বাগান চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে বারোমাসি আম ও পেয়ারা চাষেই লাভ বেশি হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে। এরইমধ্যে অনেক কৃষকের এ বাগানে উৎপাদিত ফল বিক্রি করে স্বচ্ছলতা ফিরছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাসিম হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি ভবনের ছাদ বাগান এখন কৃষি প্রশিক্ষণ বাগানের পরিণত হয়েছে। বছরে একাধিক বার এ উপজেলার কৃষি প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। এ প্রশিক্ষণকালে তাদের এ ছাদ বাগান দেখানো হয় এবং কিভাবে ছাদ বাগান বা জমিতে ফল বাগান তৈরি করতে হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। আদর্শ কৃষকেরা এসব বাগান তৈরিতে ঝুকে পড়ছে। কৃষি বিভাগ তাদের এ বাগান তৈরীতে পরামর্শও দিচ্ছেন। বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফল বিক্রিতেও লাভবান হচ্ছেন।